অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী

ক্যাম্পাসগুলোকে শিক্ষার জন্য নিরাপদ করা যায়নি

আমরা কি আসলে প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষা-সংস্কৃতি নিশ্চিত করার অবস্থায় আছি? আমাদের সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠান সরকার দিয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। উচ্চ শিক্ষা বিভিন্ন নিয়মনীতি আরোপের

আমরা কি আসলে প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষা-সংস্কৃতি নিশ্চিত করার অবস্থায় আছি? আমাদের সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠান সরকার দিয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। উচ্চ শিক্ষা বিভিন্ন নিয়মনীতি আরোপের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা বর্তমানে যে বিশ্বে বসবাস করছি, সেখানে শিক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা ও কারিকুলামসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তু আরো বেশি নমনীয় হওয়া উচিত। সর্বপ্রথম ইউজিসি ও অন্যান্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষের বাধা থেকে মুক্ত হতে হবে। ইউজিসি কারিকুলাম পর্যবেক্ষণ করবে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু কারিকুলাম উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে স্বাধীনতা দেয়া দরকার। আমাদের দেশে একটি কোর্স অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে এটি কার্যকর হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। তাহলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে? বৈশ্বিক পর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব কারিকুলাম বাস্তবায়নের সুযোগ আছে, যখনই তারা চায়।

সরকারি হোক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কোথাও আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষা-সংস্কৃতি তৈরি করতে পারিনি। ক্যাম্পাসই যখন নিরাপদ নয়, তাহলে আমরা কীভাবে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখব। আমাদের দেশে আমরা শিক্ষার্থীদের একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস পর্যন্ত দিতে পারিনি। ক্যাম্পাসেই যদি আবরারের মতো কাউকে নিহত হতে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে বৈশ্বিক মানদণ্ডে যাব?

আমরা বিদেশ থেকে শিক্ষক আনতে গেলে বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমতি নিতে হয়। একজন ব্যক্তিকে শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে আনতে গেলে বিডা থেকে কেন অনুমতি নিতে হবে? বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্যও কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। এমনকি আমাদের দেশে স্টুডেন্ট ভিসা নেই। বিদেশী শিক্ষার্থীদের এদেশে ভ্রমণ ভিসা বা অন্যান্য ভিসায় আসতে হয়। এ ধরনের অনেক জটিলতা রয়েছে আমাদের দেশে।

পূর্ববর্তী সরকার আমাদের কারিকুলামকে বিহ্বল করেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি কোর্স বাধ্যতামূলক করেছে। এগুলো সত্যিকারার্থে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাধা। পিএইচডি ও গবেষণা খাতে অনুদান দেয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি-বেসরকারি বিভাজন থাকা উচিত নয়। যার যোগ্যতা থাকবে, সে-ই পিএইচডি দেবে বা ইউজিসি থেকে অনুদান পাবে। আন্তর্জাতিক মানে যেতে আমাদের এ বিষয়গুলো অবশ্যই ঠিক করতে হবে।

—অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপাচার্য, এনএসইউ

আরও