এলডিসি উত্তরণ পেছাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মানুষ পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করায় সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে যায়, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে।

তিনি জানান, রমজান মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, সেগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে সরকার স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। তাই বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। রমজানে সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু বক্তব্য দেয়াই উদ্দেশ্য নয়, কাজের মাধ্যমে ফল দেখানোই লক্ষ্য।

এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ স্থগিতের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় চিঠিপত্রের কাজ করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। দুই দফতরের সমন্বয়ে বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। পরে তারা মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় অংশ নেন।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকে। বর্তমানে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে।

তিনি জানান, রমজান মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, সেগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে সরকার স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। তাই বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রফতানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রফতানি কাঠামো এখনো বেশ কেন্দ্রীভূত। দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে একটি মাত্র পণ্য থেকে। এ নির্ভরতা কমাতে নতুন পণ্য যুক্ত করা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেয়ার সক্ষমতা দেশের নেই। এ কারণে সাম্প্রতিক মন্থর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ শুরু করেছে।

রমজানের বাজার নিয়ে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ও সরবরাহের ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

রমজানে সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু বক্তব্য দেয়াই উদ্দেশ্য নয়, কাজের মাধ্যমে ফল দেখানোই লক্ষ্য।

রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করায় সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে যায়, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয় যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রমজান সামাল দেয়াই নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতেই হবে।

তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, এটি দেশের স্বার্থের বিষয়। এ কাজে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

আরও