টাঙ্গুয়ার হাওরে বাঁধ ভেঙে প্রবেশ করছে পানি

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। গতকাল সকাল থেকেই বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। গতকাল সকাল থেকেই বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এতে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্ধারিত ফসলরক্ষা বাঁধ নয়। স্থানীয়রা যাতায়াতের জন্য বাঁধটি তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সংরক্ষিত হাওর টাঙ্গুয়ায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে রাতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায়। সেই সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে ভারতের মেঘালয়েও। ফলে ঢলের পানি বাড়ছে নদ-নদীতে।

টাঙ্গুয়ার হাওর কমিউনিটির সদস্য গোলবাড়ি গ্রামের খসরুল আলম ও চিলাইন তাহিরপুর গ্রামের কৃষক শামছুননুর মিয়া জানান, নজরখালী বাঁধ ভাঙার ফলে এখানকার কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকলে হাওরের চারপাশে বোরো ফসল তলিয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরের তাহিরপুর অংশে ২৫ হেক্টর এবং মধ্যনগর অংশে ৭৫ হেক্টর জমিতে বোনো চাষ করেছেন দুই উপজেলার কৃষক।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‌টাঙ্গুয়ার হাওর মূলত মাছের অভয়াশ্রম রামসার সাইট। এ হাওরে বোনো ধান চাষাবাদ কম হয়।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে কৃষক নিজ উদ্যাগে কিছু ফসল রোপণ করেছেন। তাহিরপুর অংশে ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে যে বাঁধটি ভেঙেছে সেটি ফসলরক্ষা বাঁধ নয়। তাছাড়া অনেক কৃষক ফসল ঘরে তুলেছেন।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে পাউবোর কোনো বাঁধ নেই। এটি স্থানীয়রা চলাচলের জন্য তৈরি করেন। পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে।’

আরও