মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকা ভুয়া বিদ্যুৎ বিল

জিএম বরখাস্ত, ফোনে গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মাগুরায় একজন আবাসিক গ্রাহকের ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৭ কোটি টাকার ভুয়া ও অবাস্তব বিল ইস্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসানের সই করা এক চিঠিতে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।

বিদ্যুৎমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনায় গতকাল পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য এবং এর ফলে সৃষ্ট সাময়িক মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের জন্য গ্রাহকের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী গ্রাহককে আশ্বস্ত করে জানান, এরই মধ্যে ভুল বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিল বা সেবাসংক্রান্ত এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও তিনি অনুরোধ করেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে গত সেপ্টেম্বরে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বরের অংকগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় এ অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

আরও