নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে গ্রাম ও শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দেশে মূল্যস্ফীতি বেশি। বর্তমানে তা কিছুটা কমলেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে অতিরিক্ত অর্থ মানুষের হাতে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তথ্য উপদেষ্টা জানান, নতুন পে স্কেল কীভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি রোডম্যাপ দেয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এমন সরকারি কর্মীদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা রাখাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির গ্রেডগুলোর মধ্যে বেতন বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১০টি গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং পরের ১০টি গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়বে। এতে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২০-এর মধ্যে বিদ্যমান বেতন অনুপাতের ব্যবধান কমবে।
বিদ্যুৎ খাতের সংকট কাটিয়ে আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে গ্রাম ও শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এজন্য ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে দেড়-দুই বছর সময় লাগবে। এতে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং বাপেক্সের ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে।
চলতি সেপ্টেম্বরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া বিমান ব্যয়সহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মী নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এছাড়া আগে অনুমোদিত ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি আরো ৩১২টি সংস্থাকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে।
দেশে সার সংকটের গুঞ্জন নাকচ করে তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশে বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপিসহ মোট ১২ লাখ ৮৬১ টন সার মজুদ রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুদ ছিল প্রায় ১২ লাখ টন। তবে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করে কৃষকের হাতে যথাসময়ে সার পৌঁছে দিতে জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে একই আইনি কাঠামোর আওতায় এনে সংবাদকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশেষ দূতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তির ইঙ্গিত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।’