ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী রক্ষা বাঁধ

৯ কোটি টাকা ব্যয় করেও ঠেকানো যায়নি ভাঙন

প্রতি বছরই ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যা দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, মাছের খামার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমির।

প্রতি বছরই ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যা দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, মাছের খামার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমির। বন্যা প্রতিরোধে ২০১১ সালে নির্মাণ করা হয় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী রক্ষা বাঁধ। ১২২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে তখন ব্যয় হয়েছিল ১৩৭ কোটি টাকা। দুই বছর কিছুটা স্বস্তি মিললেও ২০১৩ সাল থেকে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি প্রবেশ করলেও সাময়িকভাবে তা মেরামত করা হয়েছে। গত সাত বছরে বাঁধ সংস্কারে ৯ কোটি ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয় হলেও তা প্রতিরোধ করা যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরশুরামের এক সভায় ফুলগাজী ও পরশুরামে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর ২০০৫ সালে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী ও কহুয়া নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে ১২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দুই বছর বন্যা না হওয়ায় স্বস্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ২০১৩ সালে হঠাৎ নদী রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থান ভেঙে আশপাশের এলাকা তলিয়ে যায়। এরপর থেকে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদীপারের মানুষ।

পাউবোর তথ্যানুযায়ী, গত সাত বছরে কহুয়া ও মুহুরী নদীর ভাঙনকবলিত ৮১ স্থান সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ সালে সাত স্থানে বাঁধের ভাঙন মেরামতে ব্যয় হয় ৩৯ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে ২২টি স্থানে সংস্কার ব্যয় হয় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে ১৫টি স্থানে ভাঙন মেরামতে ব্যয় হয় ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, ২০২০ সালে ২২টি স্থানে ব্যয় হয় দেড় কোটি, ২০২১ সালে নয় স্থানের ভাঙন মেরামতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৩৯ লাখ, ২০২২ সালে ৭১ লাখ ও ২০২৩ সালে ব্যয় হয় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সাত বছরে নদী রক্ষা বাঁধ সংস্কারে ৯ কোটি ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয় করেছে পাউবো। এর বাইরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন সময় বাঁধ সংস্কারকাজ পেয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে রয়েছে কাশেম ট্রেডার্স, ফেনী ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন, ইমেজ এন্টারপ্রাইজ ও শাহ সুফি এন্টারপ্রাইজ।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরই বাঁধ ভেঙে যায়। মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। তারা কোনো রকম কাজ করে চলে যায়।’

একই প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে  কাশেম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের বিল পেতে অনেক সময় লাগে। এ কারণে বেশির ভাগ ঠিকাদার কাজ করতে চান না।

তবে পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যা থেকে বাঁচতে ৭৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে ওই এলাকায় আর বন্যা হবে না।’

একই কথা জানিয়েছেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণে সমীক্ষা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করি একনেকের আগামী সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে। আগামী বছর বর্ষার আগেই বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করতে চাই। এটি নির্মাণ হলে এ এলাকায় আর বন্যা হবে না।’

আরও