নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা

আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা তথ্য উপদেষ্টার

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন ড. ইউনূসের সামনে দাঁড়িয়ে যান।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে হেনস্তা করা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এ হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল পৌনে ৪টায় হুইল চেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় তার পাশে লাগেজ হাতে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন ড. ইউনূসের সামনে দাঁড়িয়ে যান। তখন হুইল চেয়ার ঘুরিয়ে ড. ইউনূসকে টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় হেনস্তাকারীরা তার পেছনে ছুটতে থাকেন ও চিৎকার করে নানা মন্তব্য করেন।

এদিকে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, এক্ষেত্রেও তাই করা হবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বলতে চাই, তারা যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করেন, এটা আনচ্যালেঞ্জ যাবে না, প্রশ্নই আসে না।’

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে বরং ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও দেশে অস্থিরতাকে উসকে দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘সরকারের উচিত হবে এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। এরা যে ফ্যাসিস্ট, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ অব্যাহত রেখে তা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে। শেইম।’

তিনি এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে লেখেন, ‘পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট তার সন্ত্রাসীদের সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছেন, তার দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই।’

জামায়াতের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্ববাসীর কাছে সম্মাননীয় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার মধ্য দিয়ে দেশের সব নাগরিক ও রাষ্ট্র হিসেবে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে অপমানিত ও খাটো করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘দেশের মানমর্যাদা বিশ্ব দরবারে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কারো জন্যই সমীচীন নয়, যা ফ্যাসিস্টদের দোসররা করেছে। এ ধরনের আচরণ থেকে সবার বিরত থাকা উচিত।’

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারো আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচন করেছে।’

এ ঘটনায় তার সফরসঙ্গী লামিয়া মোরশেদ বলেছেন, ‘স্যারের কোনো ক্ষতি হয়নি।’ ফেসবুকে দুই শিশুর সঙ্গে নোবেলজয়ী ইউনূসের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন ‘জেএফকে বিমানবন্দরে ওই বর্বর লোকগুলো উনাকে (ড. ইউনূস) ঘিরে ধরার কয়েক মিনিট আগেই আমি এই ছবিগুলো তুলেছিলাম। পুরো পথজুড়েই ভালোবাসা ও সম্মান ছিল। তিনি একদম ভালো আছেন।’

আরও