ইন্টারনেটসেবা বন্ধের পর থেকে নতুন করে কোনো চালান শুল্কায়ন করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে আমদানি পণ্য খালাসের পদক্ষেপ হিসেবে পচনশীল পণ্যের চালানে সনাতন পদ্ধতিতে শুল্কায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে রফতানি পণ্য নিয়ে।
রফতানি পণ্য সাধারণত দেশের বেসরকারি বিভিন্ন অফডক থেকে বন্দরে এনে তারপর জাহাজীকরণ করা হয়। বন্দরের তথ্যমতে, দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর থেকে গতকাল চারটি কনটেইনার জাহাজ রফতানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়েছে। এ চার জাহাজে ১ হাজার ২২৩ একক পণ্যভর্তি রফতানি কনটেইনার পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এসব কনটেইনার ইন্টারনেটসেবা বন্ধ করার আগেই শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে বন্দরে পৌঁছেছিল।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা অ্যাসাইকুডায় কাজ করতে পারছি না ইন্টারনেটসেবা বন্ধ থাকায়। কিন্তু আমাদের ওপর নির্দেশনা রয়েছে পচনশীল পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ধরে রাখার জন্য। তাই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, এ ধরনের চালানে ম্যানুয়ালি কার্যক্রম করা যাবে। অর্থাৎ তারা যখন আমদানিকারকের পক্ষে ম্যানুয়ালি বিল অব এন্ট্রির ফর্ম ফিলাপ করে যদি জমা দেয় তাহলে আমরা সে অনুযায়ী শুল্কায়ন করে ও পে-অর্ডার রেখে খালাসের অনুমতি দিচ্ছি। তবে ম্যানুয়ালি শুল্কায়নের ক্ষেত্রে রফতানির বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার আমদানি কনটেইনার খালাস হচ্ছিল। তবে চলমান পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্রায় ৭০০ কনটেইনার ডেলিভারি হলেও গতকাল এ সংখ্যা ছিল একেবারেই শূন্য। এদিন ইন্টারনেটসেবা বন্ধ থাকায় কোনো পণ্যই খালাস করা সম্ভব হয়নি। তবে বহির্নোঙরে খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে নয়টি জাহাজ আসা-যাওয়া করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরের ভেতরে আগের কিছু গাড়ি রয়েছে। শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ডেলিভারি শুক্রবার পর্যন্ত কিছুটা হয়েছে। তবে গতকাল ইন্টারনেট না থাকায় ভেরিফাই করতে না পারায় খালাস কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কনটেইনার বন্দরে আগের মতো আসা-যাওয়া হচ্ছে না।’