ইলিশে সয়লাব কক্সবাজারের ফিশারিঘাট, কমছে দাম

দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বৈরী আবহাওয়া।

দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বৈরী আবহাওয়া। ফলে কক্সবাজারের জেলেপল্লীতে হতাশা বিরাজ করছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়া প্রায় স্বাভাবিক। এরই মধ্যে সাগরে নেমেছে অগণিত মাছধরা ট্রলার।

সপ্তাহ না পেরুতেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছে ট্রলারগুলো। ইলিশ আর হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ নিয়ে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে ফেরা ট্রলার ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে সাগরে না যাওয়ায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে জেলার বিভিন্ন মাছের আড়তে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। 

গতকাল সকালে কক্সবাজারের ফিশারি ঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। বেশি মাছ ধরা পড়ায় দামও একটু কমেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার টাকা করে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে কয়েকদিন আগে সেই একই সাইজের মাছের দাম ছিল দ্বিগুণ। 

কক্সবাজার ফিশারি ঘাটের ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার পর থেকে এ মৌসুমে আজকে (গতকাল) অনেক বেশি মাছ পড়েছে। বেশি মাছ পড়ায় দামও কিছুটা কমেছে। ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম ১০০০-১ হাজার ১০০ টাকা চলছে, যা কিছুদিন আগেও ২০০০ টাকার বেশি ছিল।’

ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, ‘অনেক বেশি মাছ পড়েছে। প্রতিটি ট্রলার থেকে ১০-২০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। কোনো ট্রলার খালি আসছে না। সব ট্রলারে মাছ পড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। এভাবে মাছ পড়লে দাম আরো কমবে।’

এদিকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোয় ট্রলার থেকে মাছ নামিয়ে বেচাকেনার পর মাছগুলো বরফের সঙ্গে ককশিট ও ঝুড়িভর্তি করে পরিবহনযোগে দেশের নানা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

ইলিশ ছাড়াও কক্সবাজারের প্রতিটি নৌঘাট অন্যান্য প্রজাতির মাছে সয়লাব। লইট্যা, ফাইস্যা, চাপিলা, পোয়া মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ বোঝাই করে সাগর থেকে ফিরছেন জেলেরা। তারা বলছেন, ‘সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সেখানে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ বেড়েছে। এভাবে মাছ পড়লে এবং দাম ভালো থাকলে আমাদের ঘরের অভাব দূর হবে।’ 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘৬৫ দিনে নিষেধাজ্ঞা ও নিম্নচাপের কারণে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। এ সময় সাগরে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বেড়েছে। মাছের আকারও বড় হয়েছে। তাই দীর্ঘ বিরতির পর সাগরে যখন জেলেরা মাছ আহরণে যান তখন ট্রলার ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারছেন।’

আরও