পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানোর ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর বিতর্কের মধ্যে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার কারণে দল যাতে বিব্রত না হয় সেজন্য পদত্যাগ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘উনাকে বলেছি, আমি পুরো সময়টায় ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তী সময়ে আরো যদি এলাকা থাকে, সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সম্মত হয়েছেন, সদয় সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি যদি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি, বাংলাদেশের যে পর্যায়ের মানুষ হোক, এ অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো ভুল সেদিন করিনি।’

মাদকবিরোধী অভিযানে নিজের হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ বলে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত নামে দুটি বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। একটি পিস্তল, আরেকটি রাইফেল। তার মধ্যে দ্বিতীয় অস্ত্রটি যেটি সেইদিন অভিযানের সময় নিয়ম মেনে একজন সহকর্মীর কাছে রাখতে দিয়েছি।’ আগামীতে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে নয়, খালি হাতে থাকবেন উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় পাই না।’

তিনি বলেন, ‘দুই-তিনদিন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত করে কল্পকাহিনী বানানো হয়েছে। আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমাকে হেয় করা হয়েছে, দলও বিব্রত হয়েছে।’

ঢাকার মেয়র পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। আমি বলেছি, এর আগে ২০২০ সালে নির্বাচন করেছি। অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ নগরীর বিভিন্ন সমস্যা এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও জানান।

ইশরাক জানান, দল চাইলে মেয়র পদে নির্বাচন করতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আবার দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও তার পক্ষে কাজ করবেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষ করে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রেস ক্লাব ভবনের তিনতলা থেকে নিচে নেমে আসেন ইশরাক হোসেন। এ সময়ও নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তিনি নিজেও ছাদ খোলা গাড়িতে চড়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়ান। হ্যান্ডমাইকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সেখানে আবারো নিজের পদত্যাগের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এরপর বেলা ২টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যান ইশরাক, এ সময়ও তার সঙ্গে নেতাকর্মীরা ছিলেন।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ইশরাক হোসেনকে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ইশরাকের ভাষ্য, নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল।

আরও