বাংলাদেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীতে আগামী তিন দিনে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে প্রকাশিত দৈনিক বন্যা পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায় এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী দুই দিন (৪ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ৬ অক্টোবর সকাল ৯টা পর্যন্ত) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এবং সংলগ্ন ভারতের প্রদেশগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় বাপাউবো।
রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানির উচ্চতা গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা হ্রাস পেলেও আগামী তিন দিনে তা আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সাময়িকভাবে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলগুলোতে সাময়িক প্লাবন দেখা দিতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীগুলোর পানির স্তরও আগামী দুই দিনে বাড়তে পারে।
এ সময়ে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার কিছু নিচু এলাকায় অল্পমাত্রার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের করতোয়া নদীর পানি এরইমধ্যে বেড়েছে। আর ঘাঘট, আত্রাই, পুনর্ভবা, টাঙ্গন ও মহানন্দা নদীগুলোতে আগামী তিন দিনে পানি দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি হ্রাস পেলেও আগামী দুই দিনে তা আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিপদসীমার নিচেই থাকবে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় বর্তমানে পানি হ্রাস পাচ্ছে। আগামী দুই দিনে আরো কমে যেতে পারে, তবে তিন দিন পর থেকে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানির স্তর বাড়ছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায় — সকল প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও উজানে ও দেশের ভেতরে ভারি বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদীতে সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে।