প্রতিবন্ধিতা অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ওপিডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের নেতারা সংসদ সদস্যদের দেয়া অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রস্তাবিত এ ককাসকে সংসদীয় তদবির জোরদার করার ও আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের বিষয়ে সংসদীয় নেতৃত্ব শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গতকাল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক প্রস্তাবিত সংসদীয় ককাসের সদস্য হতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

ঢাকায় সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) ও ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বার্ডো) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শ সভায় এ অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়।

এ পরামর্শ সভার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত প্রস্তাবিত ককাসটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সম্মতি জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার সম্পাদক নুরুন্নিসা সিদ্দিকী সহ-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে এ পরামর্শ সভায় অংশ নেন। বিশিষ্ট অতিথি ছিলেন সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, নাজমুন নাহার, নুরুন্নিসা সিদ্দিকী, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, নীলুফার চৌধুরী মনি, সানসিলা জেবরিন, ও তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি ওপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা এ উদ্যোগের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তারা একমত হন, প্রতিবন্ধী অধিকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে থাকা উচিত এবং আইন প্রণয়ন, নীতি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ওপিডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের নেতারা সংসদ সদস্যদের দেয়া অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রস্তাবিত এ ককাসকে সংসদীয় তদবির জোরদার করার ও আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ডা. নাফিসুর রহমানের উপস্থাপিত একটি মূল বক্তব্যে তুলে ধরা হয়, কীভাবে একটি সংসদীয় ককাস আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করতে, নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত ককাসটির ভূমিকা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে এ ককাস প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন ও নীতির পক্ষে কাজ করতে, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক প্রতিবন্ধিতা বাজেট বরাদ্দকে উৎসাহিত করতে, প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের তদারকি জোরদার করতে পারে তা তুলে ধরেন এবং আইনপ্রণেতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ওপিডি), সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা সহজতর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান ও বারডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক সংলাপে বক্তব্য রাখেন এবং বাংলাদেশে সংসদীয় ককাস প্রতিষ্ঠা এবং সব অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সমর্থন দেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও