বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবিতে তার বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও একটি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক পদত্যাগ করেছেন।
আজ বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিলসহকারে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে তালা লাগিয়ে দেন তারা। এ সময় উপাচার্য বাসভবনে ছিলেন না।
জানা গেছে, গত ১ মে থেকে তিনি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। যদিও ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী, উপাচার্যের এ সময়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কথা।
বুধবার (৭ মে) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট ড. আবদুল আলিম বছির ও জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক সঞ্জয় কুমার সরকার পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসানও একই কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট আবদুল আলিম বছির বলেন, আমি আজ ভিসি দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছি। তবে এর পেছনে আরো কিছু কারণ আছে, যা এখন বলতে চাচ্ছি না।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ফাইল অনুমোদন না দেয়ায় উন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আশেক এলাহী বলেন, যতদিন পর্যন্ত একজন নতুন যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ না দেয়া হবে, ততদিন এই উপাচার্যের বাসভবনের গেটে তালা থাকবে।
মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় যারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিল, তাদের হয়রানি করা হয়েছে, আর যারা বিপক্ষে ছিলেন, তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন বর্তমান উপাচার্য। ক্যাম্পাসে তার নিয়মিত উপস্থিতিও নেই।
এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে এরই মধ্যে ১১টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীরা প্রথমে ২২ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়ায় ৫ মে থেকে তারা উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।