দেশের টেকসই ও স্মার্ট নগরায়ণে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম। তিনি বলেন, শুধু সরকার একা নয়, বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ ‘আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফেরদৌসী বেগম বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য এক নয়। তাই সব অঞ্চলের জন্য একই ধরনের নগর পরিকল্পনা না করে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে। উত্তরাঞ্চলে খরা ও পানির সংকটের বিষয়টি যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি দক্ষিণাঞ্চলে ঝড়, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার বিষয়গুলো মাথায় রেখে আবাসন পরিকল্পনা করতে হবে।
তিনি বলেন, স্মার্ট আবাসন মানেই শুধু একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ নয়। একটি বাসা থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, নিরাপদে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ এবং বয়স্কদের হাঁটার পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জমির স্বল্পতা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সীমিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহারে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও কার্যকরভাবে আবাসন ও নগর পরিকল্পনা করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে টেকসই ও বাসযোগ্য করতে হলে নাগরিকদের মধ্যেও পরিকল্পিত আবাসন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুধু বিদেশের উদাহরণ দিলেই হবে না, দেশের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
ফেরদৌসী বেগম বলেন, দেশের স্মার্ট ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।