মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর ভাঙন

হুমকিতে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ

মতলব উত্তরে মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনে ভয়াবহ হুমকিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর পাড়ঘেঁষে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণেও ষাটনল থেকে কালীপুর, নবীপুর, হাফানিয়া ও খাগুরিয়া এলাকাজুড়ে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙনের ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। এছাড়া উপজেলার ধনাগোদা নদীতীরে অবস্থিত ধনাগোদা তালতলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকাতেও ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যালয়সংলগ্ন মসজিদ ও ঈদগাহের বাউন্ডারি দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে ভাঙন চলছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

খাগুরিয়া এলাকার মোহাম্মদ রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আবার নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখানে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে।’

তালতলী হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কাসপিয়া ও নাজমুল বলেন, ‘‌প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে নদীর পাড়ের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। ভাঙন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে বিদ্যালয় ভবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘‌নদীর প্রবল স্রোতে মসজিদ ও ঈদগাহের দেয়াল কয়েক জায়গায় ফেটে গেছে এবং ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঈদগাহের পরই আমাদের বিদ্যালয়ের মূল ভবন অবস্থিত। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই, জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন রোধ করা হোক।’

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, ‘‌ধনাগোদা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। তালতলী এলাকার পরিস্থিতিও আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘‌ধনাগোদা নদীর ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণের জানমাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’

আরও