রংপুর
সিটি করপোরেশনে (রসিক) আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আবার অনেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পলাতক।
হামলা ও বিভিন্ন মামলায়
গ্রেফতার এড়াতে অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন অধিকাংশ কাউন্সিলর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদেশে মেয়রকেও অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিভাগীয় কমিশনারকে। তার বিরুদ্ধেও হয়েছে হত্যা মামলা। নগর ভবনেও খুব একটা সময় দিচ্ছেন না তিনি। এ
অবস্থায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে সিটি করপোরেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিতসহ কাউন্সিলর রয়েছেন ৪৪ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থী কাউন্সিলর রয়েছেন ২১ জন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন ১৯ আগস্ট রসিকে প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তবে সেখানে তিনি তেমন একটা সময় দিচ্ছেন না। ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মাত্র তিনদিন তাকে অল্প সময়ের জন্য দেখা নগর ভবনে দেখা গেছে। এর অধিকাংশ সময় রসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী কাউন্সিলররা আত্মগোপনে চলে যাওয়া এবং তাদের কেউ কেউ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। এতে সিটি করপোরেশনের দাপ্তরিক কাজে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে কাজের গতিও কমে গেছে।
নগরীর কটকি পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী তন্ময় মোহন্ত তার দাদির মৃত্যু সনদ নিতে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল গাফফারের অফিসে একাধিকবার গিয়েছেন। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ওয়ার্ডের মতো অন্যান্য কাউন্সিলরের কার্যালয়গুলোতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস বন্ধ পাওয়া গেছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়াও সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগপন্থী ২১ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে হত্যা মামলা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৩ আগস্ট ছিল রসিকের প্রথম মাসিক সভা। হামলার আশঙ্কায় আওয়ামী লীগপন্থী ২১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ছয়জন। অবশ্য সভায় অংশ নেয়া কয়েকজন ফেরার পথে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন বলে জানা গেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রাণী রায় অধিকাংশ কাউন্সিলরের অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, নাগরিক সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে ওই ওয়ার্ডগুলোয় সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ও রসিক প্রশাসকের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আদালত থেকে এখনো কোনো লিখিত কাগজ পাইনি। তবে শুনেছি তার বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।’
কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘পরপর তিনবার মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকলে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হবে। নোটিসের জবাব সঠিক না হলে, ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।’
সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে অচলাবস্থা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। সব কার্যক্রম বোঝার চেষ্টা করছি। কাজের চাপের কারণে সিটি করপোরেশনে সময় দিতে পারছি না। তবে বিভাগীয় কার্যালয়ে বসে সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছি।’