বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে খাদ্য সংরক্ষণ, কৃষিপণ্য আমদানি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাংলাদেশের কাজে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল সকালে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে খাদ্যশস্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের বাসমতী চালের প্রশংসা করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে চাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং এর মানও সন্তোষজনক ছিল।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।’
দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ফলে জনগণের যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। বিশেষ করে করাচিতে বসবাসরত মানুষ এ যোগাযোগের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।’
বাংলাদেশী পণ্যের পাকিস্তানের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে ইমরান হায়দার বলেন, ‘পাকিস্তানে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও আনারসের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ এবং পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কৃষিপণ্যের বাজার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা যেতে পারে। বাণিজ্য সহজীকরণ ও কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব বাণিজ্যে রূপ দেয়া সম্ভব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা, প্রযুক্তি, খাদ্যনিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করা সম্ভব।’
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে ওয়াকাস ইয়াসিন, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।