জনবল সংকটে ৮ বছর ধরে বন্ধ তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

কেন্দ্রটির দুটি পদের দুটিই শূন্য থাকায় সেখানে আর গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে না।

জনবল সংকটে আট বছর ধরে বন্ধ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির দুটি পদের দুটিই শূন্য থাকায় সেখানে আর গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে না। ফলে পলাশবাড়ীর হরিনাথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের পশু চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক কৃষকদের গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮৫ সালে হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক জামিরা বাজারের পশ্চিম পাশে ৮ শতাংশ জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। একসময় এখানে দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। হরিনাথপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি মনোহরপুর, পবনাপুর, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই, সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষকরাও গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য এ কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) ও উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ)—এ দুটি পদই ২০১৮ সালের পর থেকে শূন্য। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

সরজমিনে দেখা গেছে, তালুক জামিরা বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত কেন্দ্রটির অবকাঠামো এখনো ঠিকঠাক রয়েছে। কেন্দ্রটির সামনে দিয়ে পাকা সড়ক থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। তবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেখানে গবাদিপশু নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন না কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, একসময় কেন্দ্রটিতে নিয়মিত গবাদিপশুর চিকিৎসা দেয়া হতো। এখন চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। নতুন করে কেন্দ্রটি চালু করা হলে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরাও উপকৃত হবেন।

স্থানীয় ময়নুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, ‌দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় গরু-বাছুরের চিকিৎসা করাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অন্তত একজন কর্মকর্তা দিয়েও কেন্দ্রটি চালু করা হলে এলাকার কৃষকদের ভোগান্তি কমবে।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার দত্ত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌লোকবল সংকটে তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রাখতে হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালেও ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। লোকবল কম থাকায় ওই কল্যাণ কেন্দ্রে এখনি নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও