গত রোববার রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস।
এর আগে ২৫ মার্চ বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ঘাটে থাকা একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় বাসটি অন্য ফেরির অপেক্ষায় ছিল। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনা হেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন নামানোর সময় বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের দিকে এগিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটি টেনে পন্টুনে তোলে। এ সময় বাস থেকে ১৮ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা আরো ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পরপর চারজন যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, আর কোনো মরদেহ আছে কিনা তা তল্লাশির জন্য উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে রোববার রাত পর্যন্ত নতুন করে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। কারো স্বজন নিখোঁজ রয়েছে এমন কোনো দাবিদার না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বাসডুবিতে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজন করে শিক্ষার্থী ও নিহতের পরিবার এবং সর্বস্তরের জনগণ। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত জোছনার ছেলে আলিফ, শিক্ষার্থী তামিম, মাহিন শিকদার, হাসিব, আইনজীবী খালেদ পাবেল। এ সময় তারা ফিটনেস-বিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ, অদক্ষ চালক ও সহকারী দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ, আইন অমান্য করলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা, ঘাটের পন্টুন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ পাঁচ দফা দাবি জানান।