দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডের অধীনে ২২টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় রয়েছে।
বিদ্যালয়গুলো হলো রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর মধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চার, পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন এবং পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণীর প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, ‘মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে উপস্থিতি কমেছে। উপজেলা শহরের কাছাকাছি হওয়ায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। এটিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।’
ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। ২০২২ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১২৫ শিক্ষার্থী ও নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। এ বছর পাঁচজন পরীক্ষার্থী হওয়ার কথা থাকলেও একজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করেনি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।’
ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৪৫ শিক্ষার্থী ও ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। এবার চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এদিকে পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও সে পাস করতে পারেনি।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’