মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত

মা আফসানা প্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ছোট্ট ওহি

তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট্ট আহসান ওহি নির্বাক, মাঝে মাঝে শুধু মাকে খোঁজে। কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, ‘আম্মু কোথায়?’

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে প্রতিদিনের মতোই সেই দুপুরে ছেলেকে আনতে গিয়েছিলেন আফসানা প্রিয়া। স্কুল আঙিনায় বসে ছিলেন নিশ্চিন্তে, ছেলে আহসান ওহিকে নিয়ে বাসায় ফেরার অপেক্ষায়। কিন্ত হঠাৎই বদলে গেল সব কিছু। বিকট শব্দে বিধ্বস্ত হলো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান ঠিক যেখানে তিনি বসে ছিলেন, তার একদম পাশে। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন, ধোঁয়া আর কান্নার রোল।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বহু কোমলমতি শিক্ষার্থী হতাহত হয়। চারদিকে হাহাকার, ছুটাছুটি ও দৌড়াদৌড়িতে স্কুল চত্বর রূপ নেয় এক বিভীষিকাময় মুহুর্তে।

দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্বজনরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওহিকে পাওয়া গেল স্কুলের একটি কক্ষে। অক্ষত অবস্থায় তাকে পাওয়া গেলেও তার মা আফসানা প্রিয়াকে পাওয়া যায়নি কোথাও। এখনো পর্যন্ত (মঙ্গলবার সন্ধ্যা) নিখোঁজ তিনি।

স্বজনরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ছুটে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কোনো তথ্য নেই। চোখে-মুখে আতঙ্ক আর চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন আফসানার স্বামী আব্দুল ওয়াহাব। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেডিআশুলাই গ্রামে।

ওয়াহাবের ছোট ভাই হাসিবুল হাসান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তারা ছুটে যান স্কুলে। আহসানকে অনেক খোঁজার পর উদ্ধার করতে পারলেও প্রিয়ার কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না তারা। তিনি বলেন, আমাদের শুধু একটি প্রশ্নই প্রতিনিয়ত তাড়া করছে ‘কোথায় আফসানা প্রিয়া?’ তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট্ট আহসান ওহি নির্বাক, মাঝে মাঝে শুধু মাকে খোঁজে। কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, ‘আম্মু কোথায়?’

হাসিবুল বলেন, একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই যেন ওলট-পালোট করে দিয়েছে আমাদের পরিবারকে। সময় গড়াচ্ছে, কিন্তু প্রিয়ার কোন হদিস মিলছে না। প্রশাসনের প্রতি আমাদের পরিবারের একটাই অনুরোধ, আফসানা প্রিয়ার খোঁজ দ্রুত বের করা হোক। আর যেন কোনো শিশুকে মায়ের জন্য এভাবে অপেক্ষা করতে না হয়।

আরও