যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির তিন শিক্ষকের পদাবনতি

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, দীর্ঘ সময় সিন্ডিকেট সভায় আলোচনার পর ট্রাইব্যুনালের সুপারিশ অনুযায়ী তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকরা ছাত্রীদের আলাদাভাবে একাডেমিক সহযোগিতা করতে পারবেন না

যৌন হয়রানির অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তিন শিক্ষককে পদাবনতি দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।

পদাবনতি পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলাম এবং ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রশীদুল ইসলামকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক, শাকিবুল ইসলামকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক এবং শামীম হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে অবনমন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. একরামুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ওই ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মধ্যে অধ্যাপক রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে এক ছাত্রীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশট বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ছাত্রী নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট করেন। এর আগে ১৭ এপ্রিল পরীক্ষার খাতায় নম্বর টেম্পারিং ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর একই বিভাগের এক শিক্ষার্থী প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। একই বছরের ৩০ অক্টোবর ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ৩১ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, দীর্ঘ সময় সিন্ডিকেট সভায় আলোচনার পর ট্রাইব্যুনালের সুপারিশ অনুযায়ী তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকরা ছাত্রীদের আলাদাভাবে একাডেমিক সহযোগিতা করতে পারবেন না। এছাড়া নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের নাম ‘খালেদা জিয়া’ রাখার সিদ্ধান্তও সিন্ডিকেট সভায় হয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও