বই ও আর্থিক সংকট

মিরসরাইয়ে বন্ধ হয়ে গেল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ও ফটিকছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকা কালাপানি।

অঞ্চলটির পাহাড়ে বাস করে অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দূরে হওয়ায় এসব পরিবারের শিশুরা এক সময় পড়ালেখা করতে পারত না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাশাপাশি সেখানে বাঙালি পরিবারও বসবাস করে। এসব পরিবারের শিশুদের কথা চিন্তা করে ২০১৯ সালে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন। বিদ্যালয়ের শিশুদের বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন বহন করতেন তিনি নিজেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বই ও অর্থ সংকটে পড়ে বিদ্যালয়টি। অবশেষে চলতি বছর বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠান করেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন। করেরহাট ইউনিয়নের কালাপানি নামক পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় বিদ্যালয়টির নাম দেয়া হয় কালাপানি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে সাড়া ফেলে বিদ্যালয়টি। প্রথম শ্রেণী দিয়ে শুরু করা হলেও বিদ্যালয়টিতে ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর ভালোই চলছিল বিদ্যালয়টি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাশাপাশি পাহাড়ে বসবাস করা অনেক বাঙালি পরিবারের সন্তানরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে থাকে। বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বেতন ও বইয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এনায়েত হোসেন নয়ন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়ে বিদ্যালয়টি। চলতি বছর সরকারি বই না পেয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় ১৩০ শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। কেউ কেউ পাড়া থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বালুটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় ত্রিপুরা বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকরা অন্য জায়গায় চাকরি নিয়েছেন। এছাড়া গত বছর পুরনো বই দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি গোবিন্দ ত্রিপুরা বলেন, ‘অর্থ, শিক্ষক, শিক্ষাসামগ্রীসহ বিভিন্ন সংকট থাকার পরও বিদ্যালয়টি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। কিন্তু চলতি বছর সরকারি বই না পাওয়ায় অবশেষে বিদ্যালয়টি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি আমরা।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম ফজলুর হক বলেন, ‘কালাপানি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমার কাছে যে কয়টি বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদাপত্র এসেছে সবগুলোতে বই দেয়া হয়েছে।’

আরও