এক দশক ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা ৫ গ্রামের মানুষের

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের ধাপ-সুখানগাড়ী এলাকায় ১০ বছর আগে নগর নদের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন গ্রামবাসী। শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো দিয়ে পারাপারে খুব বেশি সমস্যা না হলেও বর্ষায় ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ে ভোগান্তি।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের ধাপ-সুখানগাড়ী এলাকায় ১০ বছর আগে নগর নদের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন গ্রামবাসী। শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো দিয়ে পারাপারে খুব বেশি সমস্যা না হলেও বর্ষায় ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ে ভোগান্তি। অবস্থায় কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্থানীয় কৃষকদের। সদরের ধাপ-সুখানগাড়ী এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে এলেও তা পূরণ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের পৌরসভার ধাপ-সুখানগাড়ী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নাগর নদ। বর্ষাকালে নদটিজুড়ে থই থই করে পানি। তখন গ্রামবাসীর তৈরি বাঁশের সাঁকোটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নদের পানি দিয়েই এলাকার চাষীরা ধান, আলু, পাট, সরিষা বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেন। এসব কৃষিপণ্য বাজারে নেয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চাষীরা। নিজেদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১০ সালে নাগর নদের ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করেন গ্রামবাসী। নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁশের খুঁটির বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলাচল করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই ব্রিজের বিভিন্ন অংশ খুলে যায়। যে কারণে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের মানুষ সাঁকোটি ব্যবহার করেন।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি করেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে নিজেদের অর্থায়নে ১০ বছর আগে নাগর নদের ওপর বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকে বাঁশের সাঁকোর বিভিন্ন অংশ খুলে যেতে শুরু করে। আবার সেটি মেরামত করে চলাচল করে থাকে স্থানীয়রা। সাঁকোর পাশেই জেলার বৃহৎ হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম ধাপ-সুলতানগঞ্জ হাট অবস্থিত। ফলে হাটবারে ওই গ্রামের লোকজন ছাড়াও কাহালু, শিবগঞ্জ, কালাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক পণ্য কেনাবেচার জন্য বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করেন। হাটবারে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন পণ্য কৃষকরা সাঁকোর ওপর দিয়েই বহন করেন।

তারা জানান, বর্ষাকালে সাঁকোটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সময় শিশুদের স্কুলে যেতে দিতেও ভয় হয়। কারণ পানির স্রোতের তোড়ে কেপে ওঠে সাঁকো। যেকোনো সময় তা ভেসে যাওয়ারও ভয় থাকে।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন জানান, বীরকেদার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের লোকজন বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। ব্যাপারে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিও কামনা করেছেন।

তিনি জানান, ব্রিজটি নির্মাণ হলে দুই উপজেলার ওই পাঁচ গ্রামের কমপক্ষে তিন লাখ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম জানান, নাগর নদের ওপর পৃথক স্থানে দুটি ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও