ফেনীতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ৬ ঘণ্টা পর মরদেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত করোনার নমুনার পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। এতে করোনায় মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর সংক্রমণ না ছড়ানো নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে শহরের একজন প্রবীণ সংগঠকের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ থেকে করোনার সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৬ ঘণ্টা পর পরদিন সকালে। পরে তা পরীক্ষার জন্য নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাত ৯টা নাগাদ ওই ব্যক্তি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রাত দেড়টায় তার মৃত্যু ঘটে। তাত্ক্ষণিক টেকনোলজিস্ট না থাকায় পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গতকাল সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয় ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন।
এদিকে মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর মরদেহ থেকে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায় না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৩ জুন দুপুরে নিয়মিত বুলেটিনে করোনায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ দাফন সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে ৩ ঘণ্টা পর আর ভাইরাসের কার্যকারিতা থাকে না। কিন্তু ফেনীতে মৃত্যুর ৬ ঘণ্টা পর সংগৃহীত নমুনায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সংক্রমিত কোনো ব্যক্তির দেহে ভাইরাল লোড বেশি হলে মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। তিনি বলেন, নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে ভাইরাস ট্রান্সপোর্ট মিডিয়াম পদ্ধতিতে নমুনা পাঠানো হয়। এ পদ্ধতিতে ফলাফল ভালো পাওয়া যায় এবং মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পরও পজিটিভ হতে পারে।
বিএমএ ও স্বাচিপের ফেনী জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাহেদুল ইসলাম কাওসার বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ অনুসরণ করে, সারা বিশ্বও তা করে। নভেল করোনাভাইরাসের অনেক কিছুই এখন অনাবিষ্কৃত। এর আগে প্রাপ্ত নমুনার ভিত্তিতে ৩ ঘণ্টার কথা বলা হয়ে থাকতে পারে। এর ব্যতিক্রম এলে তা নিয়েও গবেষণা হবে। তবে আরো অনেক কিছুই সামনে আসতে পারে, যা আমরা আগে ভাবিনি বা দেখিনি।
এদিকে জেলা করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়ক ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, গতকাল ১২টি নমুনার ফলাফলে সাতটি পজিটিভ এসেছে। এদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় চারজন, দাগনভূঞা একজন ও অন্যান্য উপজেলার দুজন রয়েছেন। গতকাল নতুন করে ২৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ফেনীতে মোট ২ হাজার ৮৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১০১ জনের ফলাফলে ৩২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখনো ফলাফল পাওয়া যায়নি ৭৭৮টি নমুনার।
তিনি আরো জানান, গতকাল পর্যন্ত ফেনীতে ৩২০ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১২৫, সোনাগাজীতে ৩৯, দাগনভূঞায় ৯৩, ছাগলনাইয়ায় ৩৬, ফুলগাজীতে ৯, পরশুরামে ১০ ও অন্যান্য উপজেলার আটজন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৮ জন ও মারা গেছেন সাতজন।