গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে গত রাতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখনো চলছে। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জুলাই ঐক্য, ইনকিলাব মঞ্চ, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টায় শুরু হয়ে এ বিক্ষোভ চলছে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকেও যমুনার সামনে এনসিপির কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। তারা কিছুক্ষণ পরপর স্লোগান দিচ্ছেন। প্রায় একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন জামায়াতের কয়েকশ নেতাকর্মী। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন উপস্থিত হচ্ছেন। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে মিছিল।
কখনো টানা, আবার কখনো বিরতি দিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে ‘ব্যান করো ব্যান করো, আওয়ামী লীগকে ব্যান করো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর’ প্রভৃতি স্লোগান। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে রাত থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও র্যাব। আর শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন সড়কে। তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। এ পথ দিয়ে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।
গতকাল রাত ১০টা থেকে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়ে হাসনাত ফেসবুক পোস্টে জানান, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়া পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। যার এজেন্ডায় গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট বয়ান নেই, তার সঙ্গে আমরা নেই।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, হাসনাতের সঙ্গে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিন। নয় মাসে সোজা আঙুলে কাজ হয়নি। এখন সময় আঙুল বাঁকা করার।
রাত ১টার দিকে মিছিল নিয়ে যমুনার সামনে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও তাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন। একে একে বিক্ষোভে যুক্ত হতে থাকেন হেফাজতে ইসলাম ও এবি পার্টির নেতা-কর্মীরা। রাত দুইটার দিকে সেখানে যান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা।
রাত ২টার দিকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সে সময় তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দায়িত্ব ছিল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা। কিন্তু আমাদের আবারও এই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ সময় তিনি ‘আমার সোনার বাংলায়, আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ'সহ নানা স্লোগান দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে ইন্টেরিমকে আর সময় দিতে রাজি নই, লাশ হয়ে ফিরব, না হয় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
কর্মসূচিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমীন, সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সদস্য সচিব জাহিদ আহসান, জুলাই ঐক্যের এবি জুবায়ের, মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ প্রমুখ অংশ নিয়েছেন।