তিনি বলেন, ‘আমি চাই, দক্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দায়িত্ব নিক। ভারতের উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে। কলকাতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স, দিল্লিতে আদানির মতো কোম্পানিগুলো এ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছে। তাহলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কেন পারবেন না?
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে গতকাল বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, বাল্ক পর্যায়ে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু খুচরা বিতরণ ব্যবস্থাটি দক্ষ বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত, এটা আমার ব্যক্তিগত মত। আমার অধীন যেসব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে আমি সেগুলোর বেসরকারীকরণ দেখতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যুতের বিল আদায় করা বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ সময়মতো বিল পরিশোধ করতে চান না। এ কারণেই আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টরকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করা উচিত। কারণ প্রাইভেট সেক্টরে জবাবদিহিতা বেশি থাকে, কালেকশন এফিশিয়েন্সিও ভালো হয়। ফলে সরকারের আর্থিক দায় কমে আসে এবং পুরো ব্যবস্থাপনাও আরো কার্যকর হয়।’
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের জ্বালানি খাতে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ সময় দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে গুরুত্ব দেয়া হলেও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানি দরকার, সেই গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৭ বছরে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি। ফলে পুরো দেশ এখন আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।”আবার আমদানিনির্ভর জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে দেশে মাত্র দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর একটি এখন দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, সিএনজি স্টেশনে গ্যাস পাচ্ছে না। অনেক জায়গায় মানুষ সড়ক অবরোধ করছে। এটি প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’