দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামো নির্মাণসহ উন্নয়নের ছোঁয়াই লাগেনি কুড়িগ্রামের চিলমারী নদী বন্দরে। জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বন্দরটি চালু করা হলেও কার্যক্রমটি শুরু হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় আটকে আছে বন্দরটির উন্নয়নকাজ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নামে মাত্র চিলমারী নদীবন্দর। এখানে নেই অবকাঠামো, পণ্যবাহী জাহাজ, শ্রমিকের হাঁকডাকও। শুধু নদীপাড়ের যাত্রীরাই নৌকায় আসা-যাওয়া করছে বন্দর দিয়ে। রমনা ঘাটের এ বন্দর দিয়ে ব্রিটিশ আমল থেকে কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে পণ্য আনা-নেয়া করতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য সংকটে প্রায় ২০ বছর আগে কার্যত অচল হয়ে পড়ে বন্দরটি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বন্দরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। উদ্বোধনের পর ২০২১ সালের ৮ জুলাই একনেক সভায় বন্দরটির উন্নয়নে ২৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় বন্দরটির কার্যক্রম থমকে আছে। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ শেষ করে বন্দরের কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চিলমারী নৌবন্দর এলাকার নজরুল ইসলাম জানান, বন্দরের কাজ শুরু হবে এটা অনেক বছর ধরে শুনে আসছেন তিনি। কিন্তু কোনো কাজই হচ্ছে না। শুধু বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি পরিমাপ করে নোটিস দিয়েছে। টাকা এখনো দেয়া হয়নি। বন্দরের কাজ শুরু হলে জেলার মানুষ বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসা করতে পারবে। এতে জেলার উন্নয়ন হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বন্দরটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু প্রায় আট বছর হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভারত, ভুটান, নেপালসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নৌরুটে কম খরচে পণ্য পরিবহনের এ রুটটি চালু হলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, জেলার উন্নয়নও হবে।’ দ্রুত ভূমি সমস্যা সমাধান করে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নদীবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য অবকাঠামো নির্মাণে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান। এর মধ্যে তিন একর জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাত একর জমি অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ভূমির মালিকদের দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। এরপর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।’