গজারিয়ায় আ. লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

আহতদের প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গুলিবিদ্ধ শাহাদত, আসিফ, নউরুল ইসলাম ও শুক্কুর আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধসহ চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের টান বলাকিচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিন, হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্টু চেয়ারম্যান ও নাজমুলের নেতৃত্বে হঠাৎই যুবদল নেতা আনোয়ার প্রধানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। একইসঙ্গে বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গুলিবিদ্ধ শাহাদত, আসিফ, নউরুল ইসলাম ও শুক্কুর আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার আসামি নাজমুল, গিয়াস উদ্দিন ও মন্টু চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এলাকায় ফেরেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কতজন আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

আরও