অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সদ্য উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তৃতীয় দিনের মতো শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি চলছে। পাশাপাশি গতকাল মানববন্ধন আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যায় প্রতিবাদী মশাল মিছিলের কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে চুয়েটে আন্দোলন চলার মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বণিক বার্তাকে তার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমিমুল ইহসান, সাদিয়া আক্তার ও যুলকারনাইন মিহাদ। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মাত্র ৫৬ দিন আগে দায়িত্ব নেয়া অধ্যাপক সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আমাদের আপত্তি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে ঘিরে নয়। আমাদের দাবি সদ্য জারি করা উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।
২১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে জড়ো হন। বিভিন্ন ব্যাচ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রীদের অংশগ্রহণও ছিল। এরপর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন, গণ-অবস্থান, বিক্ষোভ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন।
চুয়েটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অ্যালামনাই প্লাটফর্ম সংহতি জানিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এতে চুয়েটের যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মালয়েশিয়ার অ্যালামনাইরাসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মের সমর্থনের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল সম্মেলন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সমিতির পক্ষে সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য এলে পরিস্থিতি ঘোলা হবে কিনা এটা আমরা জানি না। কিন্তু আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না। এ আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চরম ব্যাহত হচ্ছে।’
তিনি জানান, আগামী রোববার থেকে তারা ২ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করবেন। পরবর্তী নতুন কর্মসূচি থাকলে যথাসময়ে জানিয়ে দেয়া হবে।
চুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়ে যোগদান করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম শহরে থেকেই মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে যোগদান করেছি। যোগদানের বিষয়টি স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের সব এজেন্সিকে অবহিত করা হয়েছে। আমার যোগদানের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আমাকে নিশ্চিত করেছেন। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে
যেতে চাই।’