যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ শতাংশ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রড) এক ধাক্কায় কমে ৯০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমেছে। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পলিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ তিনটি বিষয়ের ইতিবাচক প্রভাবের ফলে গতকাল বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দরবৃদ্ধি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৯ ডলার ৩ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এত মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। স্বর্ণের দর বাড়ার পেছনে ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে। প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের সূচক দশমিক ২ শতাংশ কমায় অন্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে কিছুটা সাশ্রয়ী হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আভাস মেলায় বাজারে এ পরিবর্তন দেখা গেছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ বন্ধ রাখলে তারাও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা সামরিক রসদ কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত লক্ষ্যবস্তু না থাকার বিষয়টি জানালে ওয়াশিংটন বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এ খবরের পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হয় এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি নেমে যায়।

সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়িয়ে দেয়। স্বর্ণ যদিও মূল্যস্ফীতির সময় একটি আপৎকালীন বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত, তবু সুদহার বেশি থাকলে মূল্যবান ধাতুটি আকর্ষণ হারায়। কারণ ব্যাংক আমানতের মতো স্বর্ণ থেকে কোনো স্থায়ী সুদ বা মুনাফা আসে না। তাই জ্বালানি তেলের দাম কমায় সুদহার কম থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণকে সুবিধাজনক অবস্থায় রেখেছে।

বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান জানান, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার কারণে সপ্তাহের শুরুতেই মূল্যবান ধাতুর বাজার বেশ চাঙ্গা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডলার ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কিছুটা কমেছে।’ নরম্যানের মতে, বাজার এখন এক চোখ ইরানের পরিস্থিতির ওপর রাখছে, অন্য চোখ রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের দিকে।’

আসন্ন বুধবারের বৈঠকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করছেন শতকরা প্রায় ৬৬ ভাগ বাজার বিশেষজ্ঞ। তবে ট্রেডারদের একাংশ ধারণা করছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদহার আবার বাড়ানো হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যাবান ধাতুর দামও গতকাল ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বাজারে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ ডলার ১৫ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩১ ডলার ২০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৮৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়।

আরও