কিডনি ফাউন্ডেশনের অঙ্গদান বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

কিডনি প্রতিস্থাপন বেগবান করতে ‘ব্রেন ডেথ’ রোগীর অঙ্গ সংযোজনে জোর বিশেষজ্ঞদের

বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে ভুগছেন। কিডনি বিকল রোগীদের বেঁচে থাকার প্রধান উপায় ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। তবে ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেক ভালো থাকে এবং তিনি সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারেন। তাই দেশে কিডনির তীব্র সংকট দূর করতে মৃত বা মস্তিষ্ক মৃত (ব্রেন ডেড) রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

দেশে কিডনি বিকল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে কিডনি প্রতিস্থাপন আরো সহজ ও কার্যকর করতে মস্তিষ্ক মৃত রোগীর অঙ্গদান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে প্রতিস্থাপনের ব্যয় কমানো এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করতে সরকারি উদ্যোগেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সেভিং লাইভস ইন বাংলাদেশ: দ্য আর্জেন্ট নিড ফর ডিসিসিড অর্গান ডোনেশন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে ভুগছেন। কিডনি বিকল রোগীদের বেঁচে থাকার প্রধান উপায় ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। তবে ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেক ভালো থাকে এবং তিনি সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারেন। তাই দেশে কিডনির তীব্র সংকট দূর করতে মৃত বা মস্তিষ্ক মৃত (ব্রেন ডেড) রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের কিডনি বিভাগের অধ্যাপক ওয়াসিম মো. মহসিনুল হক, কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন-অর-রশীদ, অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপ্লান্টেশন সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক জেরেমি চ্যাপম্যান, রাফায়েল নানুম ফাউন্ডেশন ও রাফায়েল ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি ক্যুরি আন, কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাসচিব রুহুল আমিন, কোরিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইন সুং মুন, পপুলার মেডিকেল কলেজের কিডনি বিভাগের অধ্যাপক এম. মহিবুর রহমান এবং কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইনি এফ রশীদ।

অধ্যাপক ওয়াসিম মো. মহসিনুল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের ব্রেন স্টেম বা মস্তিষ্কের মূল অংশ নষ্ট হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তারা মৃত বলে বিবেচিত হন। হাসপাতালের স্বাধীন চিকিৎসক দল আইন অনুযায়ী এ ঘোষণা দিতে পারেন। একজন মস্তিষ্ক মৃত মানুষের দুটি কিডনি দিয়ে দুজন রোগীকে নতুন জীবন দেয়া সম্ভব। প্রতিস্থাপনের আগে কিডনি পাঁচ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ডোনার কার্ড বা স্বজনদের সম্মতিতে এই অঙ্গদান করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, রক্তচাপ, রক্তের শর্করা ও প্রস্রাবে প্রোটিন পরীক্ষা করে আগেভাগে কিডনি রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের উচ্চ ব্যয় এবং পরে নিয়মিত জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের জন্য বড় বাধা। এ সংকট মোকাবেলায় দুই পরিবারের মধ্যে কিডনি অদলবদলের ব্যবস্থা বা ‘পেয়ার্ড ডোনেশন’ এবং মস্তিষ্ক মৃত ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলেও মৃত্যুর পর অঙ্গদানের হার এখনো খুব কম। পর্যাপ্ত অঙ্গ না থাকায় অনেক রোগী অবৈধ অঙ্গ ব্যবসার ফাঁদে পড়ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের আর্থিক ও আইনি সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি কিডনি চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধে ভর্তুকি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনি সহায়তা সহজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অঙ্গদান নিয়ে সামাজিক সংকোচ দূর করতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন।

জেরেমি চ্যাপম্যান বলেন, কিডনির শেষ পর্যায়ের রোগীদের জন্য প্রতিস্থাপনই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। সফল প্রতিস্থাপনের জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ চিকিৎসক, স্বচ্ছ আইন, জাতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা, জনসচেতনতা এবং মানুষের আস্থা প্রয়োজন। তিনি জীবিত ও মৃত উভয় দাতার অঙ্গদান নিরাপদ ও নৈতিকভাবে পরিচালনার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি অঙ্গ কেনাবেচা, দালালচক্র এবং অবৈধ প্রতিস্থাপনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ক্যুরি আন বলেন, মৃত ব্যক্তির অঙ্গদান বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য প্রচার করা হলে মানুষের ভুল ধারণা দূর হবে, আস্থা বাড়বে এবং অঙ্গদান সামাজিকভাবে আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হওয়া ব্যক্তি এবং চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীও বক্তব্য দেন। তারা কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন সহজ করতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

আরও