মিরসরাইয়ে বেড়েছে ইলিশ আহরণ

ইলিশ প্রজনন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি অবস্থিত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ডোমাখালী-সাহেরখালী বঙ্গোপসাগর মোহনায়।

দেশে চারটি ইলিশ প্রজনন কেন্দ্র ও ছয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে। ইলিশ প্রজনন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি অবস্থিত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ডোমাখালী-সাহেরখালী বঙ্গোপসাগর মোহনায়। কিন্তু শিল্পায়নের কারণে ইলিশ প্রজনন কেন্দ্রটি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমেছে উৎপাদন। সেই সঙ্গে কমেছে আহরণও। একসময় জেলে নারীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ইলিশ বিক্রি করতেন। কিন্তু সে চিত্র এখন কালেভদ্রেও চোখে পড়ে না। তবে আশার কথা হলো গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ইলিশ আহরণ বেড়েছে দ্বিগুণ।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মিরসরাইয়ে মোট ইলিশ আহরণ হয় ১৪৭ দশমিক ৪ টন। ২০২৩ সালে আহরণ হয় ১১৬ টন। ২০২৪ আবারো বড় ধরনের ধাক্কা খায় ইলিশ আহরণে। ওই বছর ইলিশ আহরণ হয় মাত্র ৩৬ দশমিক ৪৯ টন। এক ধাক্কায় ইলিশ আহরণ কমে যায় ৭৯ দশমিক ৫১ টন। ২০২৫ সালে আহরণ হয় ২৫ দশমিক ৮০ টন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আহরণ হয় ৫২ দশমিক ৫২ টন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলেদের সঙ্গে কথা বলে যা জেনেছি—ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে ইলিশ উৎপাদন ও প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারণে ঘাটগুলো বদলে ফেলায় ইলিশ আহরণ কমছে। তবে চলতি বছর গত বছরের তুলনায় ইলিশ উৎপাদন দ্বিগুণ বেড়েছে। আমরা ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বন্ধের দিনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।’

মিরসরাইয়ে ২৯টি জেলেপাড়ায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২ হাজার ৫৫৭ জন। ২০১৬ সালের আগে ২০২৬ জন জেলে নিবন্ধিত হন। ২০২১ সালে নিবন্ধিত হন ১০০ জন। এর পরের বছরগুলোতে নিবন্ধন পান আরো ৪৩১ জন জেলে।

এদিকে সাগরে ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রত্যেক বছর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এগুলো হলো দুই দফায় ৮৭ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা, আট মাসব্যাপী জাটকা নিধন ও সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞা ও জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন। ওই সময় উপজেলার ২ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারকে দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা দেয়া হয়। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সরকার ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ বন্ধে উপজেলার ১ হাজার ৫০০টি জেলে পরিবার পায় ২৫ কেজি চাল। এছাড়া নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাসের জাটকা নিধন নিষেধাজ্ঞায় ৬২০ পরিবারকে প্রত্যেক মাসে ৪০ কেজি চাল দেয়া হয়। তবে আট মাসের বন্ধে জেলেরা ভিজিএফ সহায়তা পায় মাত্র চার মাস। স্থানীয়রা জানান, প্রজনন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মায়ানি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের জেলে মরণজিৎ জলদাশ জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর যৎসামান্য বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে গভীর সমুদ্র ছাড়া এখন ইলিশ পাওয়া যায় না। যে ইলিশ পাওয়া যায় তা দিয়ে খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও