গতকাল সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা নজরে আসে পথচারীদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে তারা মাঠের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু খাতা দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও কাছে গিয়ে খাতাগুলো হাতে নিয়ে দেখা যায়, সেগুলো অনার্স চতুর্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের পরীক্ষার খাতা। খাতার ভেতরে পরীক্ষার্থীদের লেখা উত্তরপত্র থাকায় বিষয়টি মুহূর্তেই গুরুত্ব পায় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
খাতাগুলো কীভাবে সেখানে এল, কার দায়িত্বে ছিল এবং কীভাবে সেগুলো রাস্তায় পড়ে গেল—এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় কয়েকজন পথচারী বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। পরীক্ষার খাতা মানে একজন শিক্ষার্থীর পুরো বছরের পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ। এগুলো যদি এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকে, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল, মিম, আজাদ ও অনন্যা সরকার আরশি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন কষ্ট করে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিই। আমাদের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন অনেকটাই এসব খাতার ওপর নির্ভর করে। যদি খাতাগুলো হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়, তাহলে একটি শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যেতে হবে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে খাতাগুলো সেখানে এল এবং কারা দায়ী, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।