সারজিস আলম

গাজায় সব মানবাধিকার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়

তিনি বলেন, ‘আগামীর পৃথিবীতে মানবাধিকারের বয়ান দেয়ার আগে গাজার চিত্র সামনে আনতে হবে। সে জায়গায় যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে পুরো পৃথিবীর মানুষের সামনে মানবাধিকার নিয়ে জ্ঞান দেয়ার মতো মুখ আপনার নাই। ওই মুখে আপনি তালা দিয়ে রাখুন।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে বলেন, ‘জাতিসংঘ ও ইউনিসেফসহ সব মানবাধিকার সংগঠনের চোখ, বিবেক গাজায় গিয়ে তালাবদ্ধ হয়ে যায়। সেখানে সকল মানবাধিকার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।’

রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় জুলাই আন্দোলনে নিহত সাগর রহমানের কবর জিয়ারত ও সাগরের বাড়ি পরিদর্শন শেষে চাকলাহাট ইউপির রতনীবাড়ি এলাকায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতা নয়ন তানবিরুল বারি, চাকলাহাট ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সারজিস চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। পরে সারজিস সাগরের স্মৃতিফলক পরিদর্শন করে তার মা সখিনা বেগমের সঙ্গে কথা বলে পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ‘আগামীর পৃথিবীতে মানবাধিকারের বয়ান দেয়ার আগে গাজার চিত্র সামনে আনতে হবে। সে জায়গায় যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে পুরো পৃথিবীর মানুষের সামনে মানবাধিকার নিয়ে জ্ঞান দেয়ার মতো মুখ আপনার নাই। ওই মুখে আপনি তালা দিয়ে রাখুন।’

তিনি বলেন, ‘গাজায় গণহত্যার রক্তের দাগ নেতানিয়াহুর হাতে আছে, এই নেতানিয়াহুকে যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন তাদের প্রত্যেকের গায়ে আছে।’

সারজিস বলেন, ‘আমি পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছে আহ্বান জানাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাজার ভাইদের জন্য কথা বলা শুরু করেন। আমাদের অবস্থান থেকে স্পষ্ট ঘোষণা, গাজায় যে গণহত্যা চলছে এটা যদি ঘটতে দেয়া হয় এটা শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটা একদিন পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাবে। এই গণহত্যা মুসলিম কেন্দ্রীক নয় কারণ গাজায় গণহত্যাকারীরা এমন রক্তপিপাসু তাদের যদি কোনোদিন স্বার্থের প্রয়োজন হয় তারা অন্য ধর্মের মানুষেরও রক্ত নেবে। গাজায় গণহত্যা ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জাতির মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়, এ গণহত্যা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। গণহত্যার বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে।’

ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ তথা পুরো পৃথিবী আপনাদের সঙ্গে আছে। গাজার ভাইদের যে লড়াই এ লড়াই পুরো পৃথিবীকে সাহসের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য শক্তি জোগায়।’
এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক দেশবাসীকে পহেলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে বাংলা নববর্ষগুলোতে শুধু দলীয় প্রভাব নয় বরং বিদেশী রাষ্ট্রেরও প্রভাব দেখেছি। তাদের মতো করে বিদেশী রাষ্ট্রের কনসেপ্ট তৈরি করে নববর্ষগুলোর সেগমেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া হতো।’

তিনি বলেন, ‘এই যে ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ থেকে, ক্ষমতার জায়গা থেকে, কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া এটি কখনোই টেকসই নয়, এটি আমরা প্রত্যাশাও করি না। আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার সে জায়গা দিয়েছে জনগণকে। আমি বিশ্বাস করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তারা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার না করে জনগণের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার সাহস না করে।’

আরও