উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সেতুটি ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে পড়ে। এর পর নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ নয় বছরেও ভাঙা সেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়নের দেখা মেলেনি। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই চলতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নয় বছর ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে। তার পরও আমরা কাঠের পাটাতন বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। নির্বাচন এলে সবাই সেতু নির্মাণ করে দিতে চায়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কারো দেখা মেলে না।’
ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল এলাকার পরিমল বলেন, ‘সেতু দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে, যদি পা পিছলে নিচে পড়ে যাই! তার পরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এখানে নতুন সেতু নির্মাণ হলে ছেলেমেয়েদের যাতায়াত সহজ হতো।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙে যায়। তারপর থেকে কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। তবে সেটিও এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবু ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ।’
সেতুটির ওপর নির্ভরশীল নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল, বড়ভিটা, জামতলা, বিলাতিরভিটা, কচুয়ারপাড়সহ অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি কালীগঞ্জ ও কেদার ইউনিয়নের মানুষও প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে স্কুল, হাট-বাজার, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘খালের গভীরতা ও দৈর্ঘ্য-প্রস্থের সঠিক পরিমাপ অনুযায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। এজন্য বন্যার পানির স্রোতে এটি ভেঙে পড়ে।’ এখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।