দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর অববাহিকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আগামী তিন দিন সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ এ অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে দুই জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রাক-মৌসুমি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কমলাকান্দা পয়েন্ট এবং মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মৌলভীবাজারের মনু নদীও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মনু নদীতে ২০২ ও সোমেশ্বরী নদীতে ১৩৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এসব জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
আরো বলা হচ্ছে, নেত্রকোনায় ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে। ফলে হবিগঞ্জ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় (১৪২ মিমি) ও কুমিল্লায় (১৩৫ মিমি)। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় অঞ্চলের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।