দেশের নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানির যাত্রা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে এ খাতের কোম্পানিগুলোর অবস্থা কেমন যাচ্ছে?
২০২৫ সালে আমরা একটি মিশ্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকট ব্যাংক খাতকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে। যার ফলে আমরা দেখেছি বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করেছে। ঠিক এ রকম একটি প্রতিফলন আমরা আর্থিক খাতেও দেখেছি। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুর্বল ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে এর মধ্যে নয়টিকে অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যখন একটি খাতের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের রূপান্তর কিংবা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব আমাদের ঋণ ও আমানতের ওপর পড়েছে এবং এক্ষেত্রে তেমন প্রবৃদ্ধি হয়নি। পাশাপাশি এ খাতে গত সাত-আট বছর যে আস্থার সংকট ছিল, সেটিও কিন্তু অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে যে মন্দাবস্থা আমরা দেখেছি, সে কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসএমই খাতের চলতি মূলধন জোগান দেয়া সম্ভব হয়নি। করপোরেট খাতে আমাদের অনেক ঋণ আটকে গেছে এবং নীতিসহায়তার আওতায় এগুলো দীর্ঘমেয়াদের জন্য পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল করা হচ্ছে। এর একটি প্রভাব গত বছর আমাদের তারল্যপ্রবাহের ওপর পড়েছে। এটার ক্ষত কয়েক বছর ধরে আমাদের বহন করতে হবে। সব মিলিয়ে যদি বলি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৫ সালে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে।
এ চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ভালো করেছে কিংবা তাদের ব্যবসা ধরে রাখতে পেরেছে। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?
দেখুন অর্থনীতি তো একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। এখানে সহজাত একটা চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি ছিল। ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হয়তো আমরা চার-পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মুনাফা করতে দেখব। কিন্তু এটা তো সামগ্রিকভাবে পুরো খাতকে প্রতিনিধিত্ব করছে না। একইভাবে বেশির ভাগ ব্যাংক তারল্য সংকটে থাকলেও দেখা গেছে, ১০টির মতো ব্যাংক আছে যেগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এ অতিরিক্ত তারল্য কি শুধু এ প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো সেজন্য এসেছে? না, বরং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যে অনাস্থা সেই কারণেও এসেছে। ব্যাংকগুলো কিন্তু এ অতিরিক্ত তারল্য সরকারের বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করেছে। যেহেতু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করার সুযোগ কিংবা সক্ষমতা নেই, তাই এ অর্থ মুদ্রাবাজারের মধ্যেই ছিল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হচ্ছে গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা। কিন্তু এর পরিবর্তে যদি ব্যাংক টু ব্যাংক লেনদেন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে মুনাফা করা হয়, তাহলে তো সেটি টেকসই কিছু নয়। এই যে বর্তমানে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদের হার কমা শুরু হলো এর ফলে কিন্তু ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার ওপর প্রভাব পড়বে। ফলে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ সময়ে ভালো করেছে আমি মনে করি এটি টেকসই কিছু না, শুধু সময়ের যে সুবিধা সেটিই তারা নিয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল সক্ষমতা বাড়ানোর যে সুযোগ ছিল সেটি আমরা গ্রহণ করতে পারিনি।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো বেশ জনপ্রিয়। সেখানে এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর কার্যক্রম বেশ বিস্তৃত। আমাদের এখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কেন গড়ে উঠতে পারেনি, সমস্যাটা কোথায়?
বাংলাদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুরু থেকেই ভুল মডেলে পরিচালিত হয়েছে। ভারতে অনেকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো ব্যাংকের চেয়েও বড়। সেখানে এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই, মাহেন্দ্র ফাইন্যান্সের মতো বড় বড় বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আছে, যারা বিভিন্ন খাতে কাজ করে। কেউ কৃষি উপকরণ নিয়ে কাজ করে, কেউ স্বর্ণ ব্যবসায় অর্থায়ন করে, কেউ মর্টগেজ নিয়ে কাজ করে, কেউ অবকাঠামোতে অর্থায়ন করে আবার কেউ বাইক কেনার জন্য অর্থায়ন করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এবং যে খাতে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করে না সেখানে ঋণ দেয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের এখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ছায়া ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেসব গ্রাহকের ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার সীমা শেষ হয়ে যায় তাদের এবং দ্রুত ঋণ দেয়ার জন্য এখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের পোর্টফোলিও ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেটি কিন্তু দুই-তিন বছরে বেড়ে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশকে ক্ষুদ্র ঋণের তীর্থস্থান হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। তার মানে এখানে কী পরিমাণ একটা চাহিদা রয়েছে? ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্দিষ্ট সীমা ও সক্ষমতার বাইরে অর্থায়ন করতে পারে না। আবার ব্যাংকগুলোও এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার নিচে অর্থায়ন করতে পারে না। ফলে এখানে মধ্যবর্তী যে জনগোষ্ঠী ছিল তাদেরকে অর্থায়নের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে পারত। সেই জায়গায় আমরা বিজনেস মডেল তৈরি করতে পারি নাই। আমরা ব্যাংকের কাছ থেকে তহবিল নিয়ে ব্যাংকের গ্রাহককেই অর্থায়ন করেছি। বন্ড, বিভিন্ন ধরনের আমানত স্কিমের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে বিকল্প ও বৈচিত্র্যপূর্ণ তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য আনার দরকার ছিল। কিন্তু সেটি না করে আমরা ভুল ব্যবসায়িক মডেলে গেছি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশাসনেও ঘাটতি ছিল। আমাদের নজরদারি ব্যবস্থাও দুর্বল ছিল। সার্বিকভাবে এর মাধ্যমে আমরা একটি ফাঁদের মধ্যে পড়ে গেছি। এর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো করেছে তাদের প্রত্যেকের কিন্তু একটি বিশেষত্ব রয়েছে। বিডি ফাইন্যান্স গত পাঁচ বছরে মোট অর্থায়নের ৯০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে এসএমই খাতে ঋণ দিয়েছে। এ কারণে আমরা খুব বেশি বড় হতে না পারলেও টিকে থাকতে পেরেছি। রাতারাতি তো আর পরিবর্তন করা যাবে না, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজ উদ্যোগে তাদের বিজনেস মডেল পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করতে পারে, তাহলে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে ভারতের মতো বাংলাদেশেও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।
আপনি জনগণের কাছ থেকে বড় পরিসরে আমানত সংগ্রহ করার কথা বলছিলেন। এটি কীভাবে করা সম্ভব হবে?
আমানত সংগ্রহ দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একটি হচ্ছে আস্থা, আরেকটি হলো আর্থিক সেবাকে আপনি কতটুকু মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পেরেছেন তার ওপর। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এটি এমন পর্যায়ে গেছে যে আগে মানুষের হাতে দেড় লাখ কোটি টাকার মতো নগদ অর্থ ছিল। সেটি বেড়ে কিন্তু সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মানে মানুষ ব্যাংকের পরিবর্তে নিজের কাছে টাকা রাখা নিরাপদ মনে করছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি নীতি ও তারল্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে সেটি মানুষের কাছে একটি বার্তা দেবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না এমন বার্তাও দিতে হবে। তখন মানুষ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখার জন্য এগিয়ে আসবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের জন্য স্বতন্ত্র স্কিমের মাধ্যমে আমানত আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটি সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা।
আপনি বলছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ক্ষত সেরে উঠতে বেশ কয়েক বছর লাগবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আপনারা কী ধরনের সহায়তা চাইছেন?
আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছি। যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে হয়তো অবসায়নের দিকে যেতে হবে এবং সেটি হলে সাধারণ আমানতকারীরা উপকৃত হবেন। কিন্তু এর মাধ্যমে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করা যাবে না। এর পাশাপাশি আমরা বলেছি, ১০-১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেগুলোর সুশাসন ঠিক আছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে, তাদেরকে মাত্র সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে এসএমই-ভিত্তিক একটি অর্থায়ন স্কিম হবে। প্রয়োজনে সহায়তার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলোর পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া যেতে পারে যে নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে পারলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে। এ ধরনের একটি পরিকল্পনা আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে যেসব প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার কথা না, সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। আর বাকিগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
পুঁজিবাজার থেকেও তো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে?
২০২৪ সালের আগস্টের পর আমরা মনে করেছিলাম যে পুঁজিবাজারে একটি রূপান্তর ঘটবে এবং মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। কিন্তু বছরজুড়েই আমরা এখানে একটি আস্থার সংকট দেখেছি এবং যেসব নীতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা করেছে, সেগুলো কেউ ইতিবাচকভাবে নেয় নাই। যার ফলে দেখা যাচ্ছে এ সময়ে একটা নতুন আইপিও আসে নাই। তহবিল সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সব অংশীজনের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন করা সম্ভব হলে এখান থেকেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০-২০ শতাংশ তহবিলের জোগান আসতে পারে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০২৬ সাল কেমন যাবে বলে মনে করছেন?
এ বছরে প্রথমার্ধ পর্যন্ত তারল্য পরিস্থিতি কঠিনই যাবে বলে মনে হচ্ছে। দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হতে পারে। এ সময়ে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে মনে করছি। ফলে এ বছরটিও একটি মিশ্র বছর হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর যদি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করা যায়, তাহলে এ বছরের শেষের দিকে অর্থনীতিতে সুবাতাস দেখতে পাব।
গত বছর আপনারা নতুন একটি আর্থিক সেবার প্লাটফর্ম ‘বীর’ চালু করেছেন। এক্ষেত্রে কেমন সাড়া পেয়েছেন?
২০২৫ সালে আমরা প্রবাসীদের জন্য ‘বীর’ নামে একটি আর্থিক সেবা চালু করেছিলাম। এক্ষেত্রে আমরা ৫০ কোটি টাকার মতো ব্যবসা করতে পেরেছি। আমাদের আশা ছিল এটি আরো বড় হবে। কিন্তু দেশের যে সার্বিক অনাস্থা এটি কিন্তু প্রবাসীদের আরো বেশি ভয় বা সংকটের মধ্যে ফেলে দেয়। আমরা আশা করছি হয়তো আগামী বছর কিংবা ঈদকে কেন্দ্র করে এতে আরো ভালো সাড়া পাব।
আপনাদের সিএসআর কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাই?
সিএসআরের বিষয়টি মুনাফার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ২০২৫ সালে আমরা সিএসআর কার্যক্রম কম দেখেছি। আমরা সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় গত বছর ঢাকার বাইরে মানুষের মধ্যে আর্থিক স্বাক্ষরতা তৈরির জন্য কাজ করেছি। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও আমাদের সিএসআর কার্যক্রম রয়েছে। এ বছর আমরা সিএসআর কার্যক্রম আরো বেশি জোরদার করতে পারব বলে আশা করছি।
আপনাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাই?
২০২৪ সালে আমরা দুর্দশাগ্রস্ত ঋণসহ যেসব ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো দূর করার দিকে মনোযোগ দেই। এ কারণে আমাদের পরিচালনগত লোকসান না হলেও সঞ্চিতি সংরক্ষণের ফলে ২০২৪ সালে ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে। তবে যেহেতু আমরা আগেই ঝুঁকিগুলোকে মোকাবেলা করার উদ্যোগ নিয়েছি, ফলে ২০২৫ সালে মুনাফায় ফিরতে পেরেছি। এ বছর আমরা এসএমই ও ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেগুলো আমাদের ব্যবসার মূল জায়গা সেখানে আরো বেশি জোর দেব। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পুরো ব্যবসায়িক মডেল কিন্তু ডিজিটাল। সম্প্রতি আমরা পুঁজিবাজারে অনলাইন অর্ডার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ চালু করেছি। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়মিত ঋণ দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে প্রণোদনা পাওয়া যায়। এ প্রণোদনা পাওয়া দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমরা অন্যতম। পাশাপাশি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছি। এ জায়গাগুলোতে আমাদের অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে।
সামনে নতুন কিছু করতে চান?
মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৭০-৭৫ লাখ প্রবাসী রয়েছেন। তাদের কাছে আমাদের ‘বীর’ আর্থিক সেবাটিকে পৌঁছে দিতে চাই। পাশাপাশি ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রথম সঞ্চয় যাতে আমাদের মাধ্যমে হয় সেদিকে আমাদের নজর থাকবে।