অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আর অবকাঠামো নির্মাণে প্রধান দুটি উপরকণ ইস্পাত ও সিমেন্ট। বড় প্রকল্পের নির্মাণযজ্ঞে একসময় রড ও সিমেন্ট আমদানি করতে হলেও তা এখন ইতিহাস। শীর্ষ সারির কারখানাগুলোতে বড় বিনিয়োগে বিশ্বের সর্বাধুনিক নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে ধাপে ধাপে। এরই মধ্যে শেষ হওয়া কিংবা চলমান বিশেষায়িত ও মেগা প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের সরবরাহ দিয়ে সক্ষমতাও প্রমাণ করেছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।
পদ্মা সেতু ছাড়াও মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলিভেটেড এপ্রেসওয়ে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রড ও সিমেন্ট। দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের উদ্বোধন হওয়া অংশেরও ডিপো, স্টেশন, পিলার নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রড ও সিমেন্ট ।
ভারী শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা জানান, অবকাঠামো উন্নয়নে মূলত রড ও সিমেন্টের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। দেশের ইতিহাসে পদ্মা সেতু নির্মাণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এ সেতু নির্মাণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নির্মাণ উপকরণ সরবরাহ করেছে ভারী শিল্পের উদ্যোক্তারা। বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে তা দিয়ে ইস্পাত প্রস্তুত হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল কাঠামো নির্মাণে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ইস্পাত সরবরাহ করেছে দেশীয় শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো। এরমধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের নির্মাণকাজে এককভাবে সিংহভাগ রড (এক্সট্রিম ৫০০ ডব্লিউ) সরবরাহ করেছে বিএসআরএম। এ ছাড়াও প্রকল্পে উচ্চশক্তির রড সরবরাহ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ ও কেএসআরএম।
ইস্পাত পণ্য রড উৎপাদনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমের আলী হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বিশেষায়িত ও মেগা প্রকল্পগুলোতে নিয়মিত ইস্পাত পণ্য সরবরাহ করে আসছে বিএসআরএম। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আর পণ্যের মানোন্নয়নে নিয়মিত গবেষণা এ সক্ষমতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।’
কাঁচামাল আমদানি করে দেশে সিমেন্ট উৎপাদন করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। মেট্রারেল প্রকল্পের সাড়ে ৩ লাখ টন সিমেন্টের পুরোটাই সরবরাহ হয়েছে স্থানীয়ভাবে। আংশিকভাবে উদ্বোধন হওয়া মেট্রোরেলের ডিপো-স্টেশন নির্মাণ, বেইজ স্থাপন, পিলার ও স্প্যান বানাতে মূল উপাদান ছিল সিমেন্ট।
সিমেন্ট উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পণ্যের মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রকল্পে পণ্য সরবরাহে যোগ্য হয়। প্রকল্পের ধরন বুঝে আমরা বিশেষায়িত সিমেন্ট উৎপাদন করছি। দেশের বড় বড় প্রকল্পে প্রিমিয়ার সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি আংশিকভাবে উদ্বোধন হওয়া ঢাকা মেট্রোরেলেরও নির্মাণ সহযোগী প্রিমিয়ার সিমেন্ট। সরকারের উপযুক্ত নীতিসহায়তা থাকলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অর্থনীতিকে বড় করে তুলবেন এ দেশের উদ্যোক্তারাই।’
ঢাকার পর পরই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহরেও মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা পরিচালনার জন্য নেয়া হয়েছে ৭০ কোটি টাকার প্রকল্প। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটির অনুমোদনও মিলেছে। ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রোরেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন ফর চিটাগাং মেট্রোপলিটন এরিয়া’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। যেটি শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের মার্চে।