পাইকারি বাজারে এসব কাপড় জোড়া, পেটি ও থান হিসেবে বিক্রি হয়। সপ্তাহের রবি ও বুধবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির গাঘেঁষে বসে কাপড়ের হাট। ঈদ সামনে রেখে শেষ সময়ে তাঁত মালিক ও দেশী-বিদেশী ক্রেতার আনাগোনায় জমে উঠেছে কাপড়ের হাট। বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর ও চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর কাপড়ের হাটও ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে ২০০-২৫০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও ঈদের সময় সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫০-৭০০ কোটি টাকায়। লেনদেনের বিশাল এ অংকের কারণেই হাটটিকে বলা হয় দেশের সবচেয়ে বড় কাপড়ের হাট। এছাড়া ঈদ মৌসুমে সোহাগপুর হাটে প্রায় ২৫০ কোটি এবং এনায়েতপুর হাটে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাহজাদপুরের ফিরোজ টেক্সটাইলের মালিক হাজি ফিরোজ আলম বলেন, ‘ভারতীয় পাইকাররাই আমার দোকানের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। পাকিস্তানের পাইকাররাও আসেন। তবে সে সংখ্যা খুব কম। দেশের মধ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বেশি আসেন। এছাড়া ঢাকা, রংপুর, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার আসেন। একটা সময় ছিল যখন হাতে হাতে লেনদেন হতো। এখন সময় বদলেছে। টাকার লেনদেনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে এখন সব লেনদেন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে।’
ভারতীয় ক্রেতা দীপক সাহা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শাড়ি ও লুঙ্গির দোকান রয়েছে তার। তিনি প্রায় দুই মাস পরপর শাড়ি কিনতে শাহজাদপুর হাটে আসেন। তাঁতের শাড়ি ও লুঙ্গি ভারতেও উৎপাদিত হয়। কিন্তু তুলনামূলক দাম বেশি। আর বাংলাদেশে অনেক কম দামেই পাওয়া যায়। তাই এখানে আসেন।
সিরাজগঞ্জ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত। জেলায় বেশ কয়েকটি বড় কাপড়ের হাট রয়েছে। এ হাটগুলোতে বছরজুড়ে কেনাবেচা হলেও ঈদ, বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে হাটগুলোতে বেচাকেনা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।’
বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসছেন সোহাগপুর হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসে আনা হয়েছে নতুনত্ব।’ এ বছর ব্যবসা ভালো হবে বলে তার প্রত্যাশা।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মোতালেব সেখ জানান, চট্টগ্রামে সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি মাসেই এখান থেকে কাপড় নিয়ে নিজেদের শো-রুমে খুচরা বিক্রি করেন। তবে ঈদের সময় তিন থেকে চারবার আসতে হয়। এ হাটের পাইকাররা বিশ্বস্ত খরিদ্দার পেলে কোটি টাকা বাকিতেও ব্যবসা করেন।
শাহজাদপুর কাপড়ের হাট মালিক সমিতির সভাপতি আলমাস উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে শাহজাদপুর কাপড়ে হাটে এখন প্রচুর কেনাবেচা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি হাটে ২০০-২৫০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও ঈদের সময় সেটা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকায়।’