আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে শ্যামপুর চিনিকল চালু করা না হলে রংপুরে লাগাতার হরতাল হুমকি দিয়েছে শ্যামপুর চিনিকল রক্ষা কমিটি। আজ রবিবার দুপুরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সাংবাদিক সন্মেলনে এই ঘোষণা দেন শ্যামপুর চিনিকল রক্ষা কমিটির নেতারা। সেই সাথে তাদের চার দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তারা।
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, লোকসানের অজুহাতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন দেশের ছয়টি চিনিকল বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে রয়েছে চারটি।
দেশে চিনির চাহিদা বছরে ১৬ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশের ১৫টি চিনিকলে উৎপাদন হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। সরকার এই বিপুল সংখ্যকের কথা চিন্তা না করে দেশী-বিদেশী লুটেরাদের স্বার্থে চিনিকলগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিটির নেতারা সংবাদ সন্মেলনে বলেন, দীর্ঘদিনের পুরনো যন্ত্রপাতি, অদক্ষ প্রশাসন, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রণোদনা-প্রশিক্ষণের অভাব, রাজনৈতিক প্রভাবে অধিক জনবল নিয়োগ, দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা ও এর সাথে যুক্ত অসাধু শ্রমিক কর্মচারীদের লুটপাটের কারণে দেশের চিনি শিল্প আজ লোকসানে পরিণত হয়েছে।
প্রতিটি চিনিকলে নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন, ডিস্ট্রিলারি স্থাপন, জৈব সার উৎপাদন, মিনারেল ওয়াটর প্লান্ট, জুস প্লান্ট স্থাপনসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন সংগঠনের নেতারা।
তারা অভিযোগ করেন, সরকার বলছে জাপান ও থাইল্যান্ড আমাদের দেশের চিনিকলগুলোতে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায়। তা হলে বিদেশীরা চিনিকল চালু, বিনিয়োগ ও লাভের সম্ভাবনা পেলেও সরকার তা দেখাতে পারছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৩ জানুয়ারি নগরীর কাচারিবাজারে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়। সেই সাথে তাদের চার দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শ্যামপুর চিনিকল বন্ধ নয়, বরং আধুনিকায়ন করতে হবে, আখ চাষীদের কাছে লাভজনক দামে আখ ক্রয় করতে হবে, চিনি কলের সাথে জড়িত দুর্নীতিবাজদের শাস্তির আওতায় আনা ও শ্রমিক কর্মচারীদের ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে, বেতন-ভাতা, পেনশন পরিশোধ করতে হবে।
সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্যামপুর চিনিকল রক্ষা কমিটি সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস, শ্যামপুর চিনিকল এমপ্লিয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহামুদ, সাধারণ সম্পাদক বুলু আমিন, সাবেক সভাপতি কতিবর রহমানসহ শ্যামপুর চিনিকল রক্ষা কমিটির সদস্যরা।