তবে মসজিদটি কবে, কখন ও কীভাবে নির্মিত হয়েছে, তা কেউ জানেন না। বর্তমানে এটি প্রাচীন শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত। জেলার কচুয়ায় ধর্মীয় ও দর্শনীয় নিদর্শনের মধ্যে এটি একটি। মসজিদটি সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোগল সম্রাটের শাসনামলে বন-জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে মসজিদটির খোঁজ মেলে। ওই সময়ে এলাকায় জনবসতি না থাকায় বনজঙ্গলে আচ্ছন্ন হয়ে মসজিদটি ঢাকা পড়ে যায়। ধারণা করা হয়, প্রায় ৬০০ বছর আগে ১৮ শতাংশ জমির ওপর এটি নির্মাণ করা হয়। তবে মসজিদটি কে বা কারা নির্মাণ করেছেন, তা জানা যায়নি। সেই থেকে এলাকার মানুষ মসজিদটিকে ‘গায়েবি মসজিদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে।
এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিতে আগে ইমামসহ মাত্র ৯-১০ জন নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এর আয়তন বাড়ানো হয়েছে। একতলাবিশিষ্ট এ মসজিদে এখন একসঙ্গে ১৫০-২৫০ জন নামাজ পড়তে পারেন।
এলাকার মো. মিজানুর রহমান জানান, মসজিদটি অত্যন্ত প্রাচীন। এ মসজিদে এখন বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত লোক এসে নামাজ পড়েন। মসজিদটি এখন বৃহৎ আকারে করা হয়েছে। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে মসজিদটি আরো বড় করা যাবে।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. বায়েজিদ সরকার বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার দূরদূরান্ত থেকে মানুষ মসজিদে মানতের নগদ টাকা প্রদান ও মিষ্টি বিতরণ করেন। আগের চেয়ে মসজিদটি অনেক প্রসারিত হয়েছে। এখনো অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।’
মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল হক নিজামী জানান, মসজিদের নির্মাতা কে বা কারা, তা আমরা বলতে পারছি না। আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে শুনে আসছি, এটি গায়েবি মসজিদ। সম্ভবত মোগল সম্রাটের আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি শুক্রবার মুসল্লিরা এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান রাসেল জানান, ‘মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’