ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে আজকের লং মার্চে কেউ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিতে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্টরা জনগণের আস্থা হারাবেন এবং জনরোষের মুখোমুখি হবেন।’
গতকাল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এ কর্মসূচি পালন করবে।
লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের কোনো দল বা কেউ লং মার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলে তারা জনগণের আস্থা হারাবেন এবং জনরোষের মুখোমুখি হবেন।’ সরকার ও সরকারি দলের কেউ এমন অপরিণামদর্শী পথে পা বাড়াবেন না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেবে বলে তিনি আশা করেন।
আজ সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। পরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে লং মার্চ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথে লং মার্চ করার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচির পর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে জোট।
গতকাল ব্রিফিংয়ের আগে লং মার্চের প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা বৈঠক করেন। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ শরিক দলগুলোর নেতারা অংশ নেন।