রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের গ্যারেজে তিন বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স। নীতিমালা না হওয়া এবং লোকবলের (চিকিৎসক) অভাবে আইসিইউ সাপোর্টসংবলিত অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। এজন্য অনেক সময় প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়ছে মুমূর্ষু রোগীরা। তবে অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে মাঝে মাঝে চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রমেক হাসপাতালের নতুন ও পুরনো কার্ডিয়াক (সিসিইউ) ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে শয্যা রয়েছে ৪৮টি। তবে এর বিপরীতে রোগী ভর্তি থাকে দ্বিগুণের বেশি। আবার খুব গরম ও শীতে হার্টের রোগী ভর্তি বেড়ে যায়। হঠাৎ হার্টের সমস্যার কারণে কারো অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্যত্র নিয়ে যেতে হয়। এছাড়া আইসিইউতে শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি। অনেক সময় শয্যা না পাওয়া মুমূর্ষু রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। রংপুর ও এর আশপাশে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিতে হলে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্সই বিকল্প ব্যবস্থা। কিন্তু তিন বছরের বেশি সময় পরও শুধু নীতিমালার অভাবে অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
রমেক হাসপাতালের প্রশাসনিক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে আইসিইউর সব সুবিধাসংবলিত কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্সটি রমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়। যাতে এ অঞ্চলের মুমূর্ষু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সেই সাপোর্ট দেয়া সম্ভব হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে উন্নত প্রযুক্তির পালস অক্সিমিটার, ইসিজি মেশিন, সিরিঞ্জ পাম্প, ভেন্টিলেটর মেশিন, সাকার মেশিন, মনিটর, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ জীবন রক্ষাকারী সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। তাই চালক ছাড়াও এটি পরিচালনায় একজন করে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয় থাকতে হবে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রংপুর বিভাগ ও জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মামুনুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু নীতিমালার কারণে তিন বছরের বেশি সময় রোগীরা কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স সেবাবঞ্চিত থাকবে, এটা দুঃখজনক।’
তবে অনেক সময় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চিকিৎসকের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সৈয়দ মামুনুর রহমান বলেন, ‘অনেক স্থানে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে তো বিষয়টি উঠছে না।’ তিনি মনে করেন, এ বিষয়ে আইন আছে। সেটি যথাযথ মেনে এবং রোগীর স্বজনদের আগে থেকে কাউন্সিলিং করলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। তার পরও যারা নিরাপত্তার কথা বলেন, এটি এক ধরনের অজুহাত বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ‘লোকবল ও নীতিমালা না থাকায় কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্সটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও মাঝে মাঝে অ্যাম্বুলেন্সটির সার্ভিস অব্যাহত আছে। নীতিমালা করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সটি টেবিল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট তালিকাভুক্ত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে রমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘শুনেছি লোকবলের অভাবে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’ তবে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর জন্য তার সাধ্যের মধ্যে যা করা দরকার তা তিনি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।