ভারতের সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এবং বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা বন্ধের দাবিতে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সে অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় মানববন্ধন এবং ১৫ জুন ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
আজ বুধবার ঢাকায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্তে হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সীমান্তে হত্যার যে চিত্র দেখা যায়, সেটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত তিন মাসে ৫০-এর অধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা হয়েছে। তবে বাস্তব সংখ্যা এর দ্বিগুণের বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২৪ জন। বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ৮৩ জনকে আটক করে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যৈষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মহাসচিব ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক প্রমুখ।