মেহেরপুরে পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে হলুদ চাষ করছেন অনেকে। ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মসলাজাতীয় এ পণ্যের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশী হলুদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কয়েক বছর ধরে মেহেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে পণ্যটির আবাদ শুরু করেছেন কৃষক। বিশেষ করে অনাবাদি, পতিত ও ছায়াযুক্ত জমি ছাড়াও ফলের বাগানে হলুদের চাষ করে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করছেন তারা। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতাও পাচ্ছেন কৃষক।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৫-৫৫ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করে দেড়-দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। যদিও সার, সেচ ও কীটনাশকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবু অন্য অনেক ফসলের তুলনায় হলুদ চাষ লাভজনক।
গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের কৃষক আসাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি গত বছর বাড়ির ছাদে বস্তায় হলুদ চাষ করেছিলাম। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ভালো দামে বিক্রিও করেছিলাম। হলুদ লাভজনক দেখে চলতি বছর দেড় বিঘা জমিতে চাষ করেছি। যে জমিতে অন্য ফসল আবাদ করা অসম্ভব ছিল, সেখানেই ভালো মনের হলুদ হয়েছে।’
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। এ বছর কাঁচা হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৪৮৮ টন।
মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হলুদ লাভজনক ফসল। প্রতি একর জমি থেকে গড়ে ছয়-সাত টন হলুদ উৎপাদন হয়। পতিত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে হলুদ চাষের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’