নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে সুমনা রওশনা আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিমন মল্লিকের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারসহ পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন লিমন।
দিঘলিয়া ইউনিয়নের চর দিঘলিয়া গ্রামে গতকাল সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা রওশনা আক্তারের বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার দৌলতদী গ্রামে। তার পিতার নাম বাবর আলী ফকির।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান।
এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন। এরপর এনজিও থেকে লোন নিয়ে ইজিবাইক কিনেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম টিকটকে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।
গতকালে সকালে টিকটক ও অনলাইন ব্যবহার নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন লিমন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকালে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড।
সুমনার মা রোশেদা বেগম বলেন, সোমবার দুপুরের পর লিমন ফোনে আমাকে জানায় আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। জামাইয়ের কথা তখন বিশ্বাস করিনি। এরপর সন্ধ্যায় এক ইউপি সদস্য ফোন করে জানায় আপনার মেয়ে মারা গেছে। এরপরই লোহাগড়া থানা পুলিশ ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানাই।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রবিউল ইসলাম জানান, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।