রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দুই ক্যাথল্যাবের একটি নষ্ট অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে হৃদরোগীদের

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাথল্যাবে উন্নত এক্স-রে ও ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত এবং বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা দেয়া হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে থাকা দুটি ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবরেটরির (ক্যাথল্যাব) একটি প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট। ফলে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসায় একমাত্র সচল ক্যাথল্যাবটির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে রোগীদের। তবে সচল মেশিনটির ওপর চাপ কমিয়ে আয়ুষ্কাল বাড়াতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনেই এনজিওগ্রাম, রিং ও পেসমেকার স্থাপনের মতো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের সময় সেবা না পেয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাথল্যাবে উন্নত এক্স-রে ও ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত এবং বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা দেয়া হয়। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লক বা সংকোচন শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজন হলে বেলুন বা স্টেন্ট (রিং) বসিয়ে বন্ধ বা সংকুচিত রক্তনালি সচল করা হয়। এছাড়া পেসমেকার স্থাপনসহ ভালভ ও হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসাতেও ক্যাথল্যাব ব্যবহার করা হয়।

কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুল ইসলাম জানান, গত মাসে রমেকের ক্যাথল্যাবে ১১০টি এনজিওগ্রাম, ২০টি রিং ও সাতটি পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৫-৩০ জন রোগী এনজিওগ্রামের জন্য ভর্তি হন। তাদের মধ্যে তিন থেকে পাঁচজনের রিং স্থাপনের প্রয়োজন হয়। প্রতি মাসে গড়ে দুই থেকে তিনটি স্থায়ী পেসমেকারও স্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘‌সচল ক্যাথল্যাবটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার এনজিওগ্রাম এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার পেসমেকার ও রিং স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের অনেক রোগী অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় এনজিওগ্রামে রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার পর অর্থের অভাবে অনেকে রিং স্থাপন করতে পারেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় রিংসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করা হলে দরিদ্র রোগীরা উপকৃত হতেন।’

রমেক হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ না থাকাও বড় সীমাবদ্ধতা বলে জানান ডা. হাসানুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় কোনো রোগীর বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় যেতে হয়। সেখানে কোথায় কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রমেকে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ থাকলে তুলনামূলক কম খরচে বাইপাস সার্জারি করা সম্ভব হতো।’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে রমেকের কার্ডিওলজি বিভাগে প্রথম ক্যাথল্যাব চালু হয়। পুরনো এ ক্যাথল্যাবটি বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। সাময়িক অসুবিধার কথা স্বীকার করে ক্যাথল্যাব ইনচার্জ টেকনোলজিস্ট মাহমুদুল হাসান জানান, দুটি মেশিন চালু থাকলে একটি যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ত না এবং বেশি রোগীকে সময়মতো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হতো। সম্প্রতি সচল ক্যাথল্যাবের এসির কেবল ও অন্যান্য উপকরণ চুরি যাওয়ায় কিছুদিন চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

সরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রামের ফি ২ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে একই চিকিৎসায় খরচ পড়ে প্রায় ১৬-৩৫ হাজার টাকা। স্থায়ী পেসমেকার স্থাপনে রমেক হাসপাতালে ২ লাখ টাকার মধ্যে খরচ হলেও বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয় কমপক্ষে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

নষ্ট ক্যাথল্যাব মেরামত বা নতুন ক্যাথল্যাব স্থাপনের বিষয়ে রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘‌হাসপাতাল চত্বরে নির্মাণাধীন ১৫ তলা ৪৬০ শয্যার সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা ইউনিটের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তখন নতুন ক্যাথল্যাবও পাওয়া যাবে। এ কারণে স্বল্প সময়ের জন্য পুরনো ক্যাথল্যাব মেরামত অথবা নতুন ক্যাথল্যাব কেনার পেছনে বড় অংকের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি এখন বিবেচনা করা হচ্ছে না।’

আরও