বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে ১২ জন গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাকে স্বীকৃতি, অনুদান ও সম্মাননা দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের এ সম্মাননা দেয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতাধীন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উদ্ভাবনবিষয়ক দক্ষতা কর্মসূচির (এসআইসিআইপি) উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্প গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন (বিআইআরডিআই) কর্মসূচির আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি শিল্প খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়নে বিআইআরডিআইয়ের আওতাভুক্ত গবেষক ও উদ্যোক্তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক দেশগুলো প্রতিবছর গবেষণা ও উন্নয়নে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ কারণে অনেক দেশ মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে।
তিনি বলেন, চীন তার অর্থনৈতিক উৎপাদনের ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে। ভারত এ খাতে প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং বৈশ্বিক রফতানি বাজারে বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ১ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে জাতীয় গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে স্থবির হয়ে আছে। সমপর্যায়ের মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে এ বরাদ্দ অন্যতম সর্বনিম্ন।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যেও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যায়। দেশের উৎপাদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রতি কর্মীর জন্য বছরে গড়ে ৫০০ টাকারও কম ব্যয় করে। ফলে বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশকে এমন সব প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে, যাদের সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের অংশীদারত্ব, বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিদিন প্রতিযোগিতা করতে হয়।
তিনি বলেন, কোনো গবেষণা বা উদ্ভাবন তখনই বিকশিত হয়, যখন তিনটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভ একসঙ্গে কাজ করে। এর একটি হলো শিল্প। শিল্পের মাধ্যমে বাজারের চাহিদা ও কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া যায়। দ্বিতীয়টি হলো একাডেমিয়া। তাদের রয়েছে বৈজ্ঞানিক কঠোরতা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। তৃতীয়টি হলো সরকার। সরকার প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ঝুঁকি কমাতে রাজস্ব-সেতু, নীতিগত প্রণোদনা ও নিয়ন্ত্রক নিশ্চয়তা তৈরি করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। এ আয়োজন শুধু বিআইআরডিআইয়ের আওতাভুক্ত গবেষক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে না। দেশজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে কাজ করা বৃহত্তর গবেষক ও উদ্ভাবক সমাজকেও এটি অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ও এসআইসিআইপির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআইসিআইপির অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী কর্মসূচি পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন।