সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যতই মতানৈক্য ঘটুক, ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে—বলুক, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ফ্যাসিবাদের যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে, গণতন্ত্র তো যাবেই, রাষ্ট্রও থাকবে না।’
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।
রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য ও বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনার আমলে এ ধরনের পরিস্থিতি ছিল “অবিশ্বাস্য”। সে সময় বিরোধী দলের রোডমার্চ ও লংমার্চে বিভিন্নভাবে বাধা দেয়া হতো এবং সাধারণ মানুষও হামলার শিকার হতেন।’
গণতন্ত্রের অর্থ যা ইচ্ছা তা বলা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যে রেটোরিক থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।’
সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ‘অতীতে অনেক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ক্ষমতাসীনদের সমর্থন করলেও রুহুল আমিন গাজীর মতো ব্যক্তিদের দিয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেয়ানো সম্ভব হয়নি। ইতিহাসে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনামলেও অনেক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী তাদের সমর্থন করেছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ ধরনের শাসন টেকেনি।’
রুহুল আমিন গাজী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গাজী গণতন্ত্র ও ইসলামকে পছন্দ করতেন এবং আওয়ামী লীগের কথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেন। এ কারণে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। রুহুল আমিন গাজী ছিলেন “সত্যভাষণের এক অনন্য প্রতিনিধি”।’